রাতে টক বা অ্যাসিডিক খাবার খাওয়া শরীরের জন্য কতটা নিরাপদ?
রাতে টক বা অ্যাসিডিক খাবার খাওয়া শরীরের জন্য কতটা নিরাপদ?   ছবি: সংগৃহীত

এখন বৈশাখ মাস। দেশে প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে। ঝড়ের সঙ্গে গাছ থেকে কাঁচা আম পড়ে যাচ্ছে, আর বাজারেও এখন আমের ছড়াছড়ি। এই সময়ে অনেকেই আম মাখা বা টকজাতীয় খাবার খেতে পছন্দ করেন। তবে দিনের ব্যস্ততায় অনেকেরই এটি খাওয়ার সময় হয় না, ফলে রাতে দেরিতে গিয়ে আম মাখা বা টক খাবার খাওয়ার অভ্যাস দেখা যায়।

কিন্তু রাতে টক বা অ্যাসিডিক খাবার খাওয়া শরীরের জন্য কতটা নিরাপদ-এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ টক খাবারই অম্লীয় বা অ্যাসিডিক প্রকৃতির। ঘুমানোর আগে এগুলো খেলে পাকস্থলীতে অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গিয়ে অ্যাসিডিটি, বুক জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। এছাড়া আয়ুর্বেদ ও পুষ্টিবিজ্ঞানের কিছু মতানুসারে রাতে টক খাবার খেলে শরীরে শ্লেষ্মা বা কফ বাড়তে পারে, যা সর্দি-কাশির ঝুঁকি বাড়ায়।

পুষ্টিবিদদের মতে, রাতের বেলায় শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া বা মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায়। এই সময়ে টক খাবার খেলে হজম প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে, কারণ পাকস্থলীর পাচক রস তখন তুলনামূলক কম সক্রিয় থাকে। ফলে খাবার হজমে সমস্যা তৈরি হয়।

এছাড়া ঘুমানোর আগে টক বা ভারী খাবার খেলে শরীর অতিরিক্ত শক্তি পায়, যা ঘুমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এতে ঘুমের মান খারাপ হতে পারে এবং ক্লান্তি বা অস্বস্তি বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, রাতে টক খাবার খেলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে শ্লেষ্মা বা কফ জমার প্রবণতা বাড়তে পারে, যার ফলে শ্বাসকষ্ট, নাক বন্ধ বা বুকে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।

তবে তারা মনে করিয়ে দেন, টক খাবার সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং এসব খাবার দিনের বেলায় খাওয়াই সবচেয়ে ভালো, যখন শরীর সক্রিয় থাকে এবং হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে কাজ করে।

সূত্র: এনডিটিভি ফুড, স্লিপ ফাউন্ডেশন