হাম কীভাবে ছড়ায়,আক্রান্ত, করণীয়
হাম কী, কেন ও কীভাবে ছড়ায়?   ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি দেশে শিশুদের মধ্যে জ্বর ও শরীরে র‍্যাশ নিয়ে হাসপাতালে ভিড় বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, এসব শিশুর অনেকেই হাম রোগে আক্রান্ত। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে এবং কিছু শিশুমৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে, যা অভিভাবক ও স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা রুবেলা ভাইরাস দ্বারা ছড়ায়। সাধারণত উচ্চমাত্রার জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মাধ্যমে রোগের লক্ষণ শুরু হয়। জ্বরের তিন থেকে চার দিনের মধ্যে মুখ থেকে শুরু করে সারা শরীরে লালচে র‍্যাশ দেখা দেয়। এই ভাইরাস শ্বাসনালীর মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে এবং শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা সাময়িকভাবে দুর্বল করে দেয়, ফলে অন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

হামের জটিলতা অনেক ক্ষেত্রে মারাত্মক হতে পারে। আক্রান্ত শিশুর নিউমোনিয়া, তীব্র ডায়রিয়া, ভিটামিন এ-এর ঘাটতি, চোখ শুষ্ক হয়ে যাওয়া এমনকি অন্ধত্বের ঝুঁকিও তৈরি হয়। এছাড়া কানপাকা, মুখে ঘা, অপুষ্টি এবং মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো জটিলতাও দেখা দিতে পারে।

হাম খুব দ্রুত ছড়ায়। আক্রান্ত শিশুর হাঁচি-কাশির মাধ্যমে আশপাশের সুস্থ শিশুরা সহজেই সংক্রমিত হতে পারে। তাই একবার কোনো এলাকায় সংক্রমণ শুরু হলে তা দ্রুত বিস্তার লাভ করে।

বাংলাদেশে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের এমআর টিকা দুই ডোজ দেওয়া হয়—প্রথমটি ৯ মাস বয়সে এবং দ্বিতীয়টি ১৫ মাস বয়সে। এই দুই ডোজ গ্রহণ করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা পাওয়া যায়। তবে অনেক শিশু এখনও টিকা পায়নি বা আংশিক টিকা নিয়েছে, ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে টিকা নেওয়ার পরও শরীরে পর্যাপ্ত প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি না হলে পুনরায় সংক্রমণ হতে পারে।

কোনো শিশুর জ্বর ও র‍্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। র‍্যাশ ওঠার পর অন্তত পাঁচ দিন শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখতে হবে। এ সময় স্বাভাবিক খাবার ও পানীয় চালিয়ে যেতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন এ ক্যাপসুল ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দিতে হবে।

তবে যদি শিশুর শ্বাসকষ্ট, বারবার বমি, খিঁচুনি, অতিরিক্ত দুর্বলতা, চোখ ঘোলা হয়ে যাওয়া বা মুখে গভীর ঘা দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে হাসপাতালে নিতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো চিকিৎসা ও টিকাদান নিশ্চিত করলেই হামের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।