ব্যবসার নামে অস্বাভাবিক মুনাফা করার সুযোগ নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী
ব্যবসার নামে অস্বাভাবিক মুনাফা করার সুযোগ নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী।   ছবি: সংগৃহীত

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করবেন এবং যৌক্তিক মুনাফা করবেন- এটি স্বাভাবিক। তবে ব্যবসার নামে অস্বাভাবিক মুনাফা করা, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা সরবরাহ ব্যবস্থায় অযৌক্তিক বাধা তৈরি করে বাজার অস্থিতিশীল করার সুযোগ নেই। 

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ডিমের উৎপাদন ও সরবরাহ পর্যালোচনার বিষয়ে ডিম ও পোলট্রি খাতের ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ডিম দেশের সাধারণ মানুষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য। এ পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর সরাসরি চাপ পড়ে। তাই এমন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি করা যাবে না, যাতে সাধারণ ভোক্তাকে অযৌক্তিকভাবে বেশি দাম দিতে হয়।

উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যায় পর্যন্ত ডিমের মূল্য ব্যবধান পর্যালোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরবরাহ ব্যবস্থার কোন পর্যায়ে অস্বাভাবিক ব্যয় বা অতিরিক্ত মুনাফা যুক্ত হচ্ছে, তা চিহ্নিত করতে হবে। বাজার ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে উৎপাদক, পাইকার, আড়তদার ও খুচরা ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে চায়। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় রাখা এবং ভোক্তার স্বার্থ রক্ষা করাও সরকারের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে সরকার ও ব্যবসায়ীদের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে।

সভায় ব্যবসায়ীরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ভুট্টা, সয়াবিনসহ পোলট্রি খাদ্যের বিভিন্ন উপকরণের দাম বাড়ায় প্রতি ডিমের উৎপাদন ব্যয় প্রায় ১১ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে উৎপাদক পর্যায়ে প্রতি ডিমের গড় বিক্রয়মূল্য ছিল ৭ টাকা ৯১ পয়সা, যা সেপ্টেম্বরে বেড়ে প্রায় ১১ টাকা ৩০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

ব্যবসায়ীরা আরও জানান, বছরের একটি বড় সময় উৎপাদন খরচের নিচে ডিম বিক্রি করতে হলেও দাম বাড়ার সময়টিই বেশি আলোচনায় আসে। উৎপাদক থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে সাধারণত দেড় থেকে দুই টাকা পর্যন্ত মূল্য সংযোজন হয়।

দামের মৌসুমি ওঠানামা কমাতে অতিরিক্ত উৎপাদনের সময় ডিম এক থেকে দেড় মাস সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি টার্নওভার কর ও আয়করের চাপ যৌক্তিক করা, পোলট্রি খাদ্যের উপকরণের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণের প্রতিবন্ধকতা কমানো এবং প্রতিদিনের উৎপাদন, সরবরাহ ও বাজারদরের তথ্য প্রকাশের সুপারিশ করেন তারা। সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে ডিমের দাম কমে আসবে বলেও জানান তারা।

ব্যবসায়ীদের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, খাতটির যৌক্তিক সমস্যা ও সুপারিশ সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। তবে বাজারে যাতে কোনো পক্ষ সুযোগ নিয়ে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি করতে না পারে, সেদিকেও কঠোর নজর রাখতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো উৎপাদক যেন ন্যায্য মূল্য পান, ব্যবসায়ীরা যৌক্তিক মুনাফা করতে পারেন এবং ভোক্তারা সহনীয় দামে ডিম কিনতে পারেন।

বাজারে কৃত্রিম সংকট, সরবরাহে অস্বাভাবিক বাধা কিংবা অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তা পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

সভায় উপস্থিত ছিলেন- বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, অতিরিক্ত সচিব (আইআইটি) ড. আহমেদ উল্লাহ, কাজী ফার্মস লিমিটেডের পরিচালক কাজী জিসান হাসান, ব্রিডার্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মাহবুবুর রহমান, ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশনের মশিউর রহমান, অ্যানিমেল হেলথ কোম্পানিজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের ইসি মেম্বার আফতাব আলম, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) -এর অর্গানাইজিং সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ, বিপিআইসিসি ও ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের মো. নজরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাফির রহমান।