গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার লোগো
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার লোগো   ছবি: সংগৃহীত

নবম জাতীয় বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ ও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বিবেচনায় পুরো কাঠামো একসঙ্গে নয়, বরং তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

সরকারি সূত্রে জানা যায়, এই নতুন পে-স্কেল সম্পূর্ণভাবে কার্যকর করতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। এ কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর জন্য আসন্ন বাজেটে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

রবিবার (১৭ মে) মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

এর আগে গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে বাজেটসংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের ধারাবাহিক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। টানা দুই দিনের ওই বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন পে-স্কেলের রূপরেখা, খাতভিত্তিক বরাদ্দ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর আহরণের সার্বিক চিত্র প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করেন। সব দিক পর্যালোচনার পর প্রধানমন্ত্রী নতুন বেতন কাঠামো চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সম্মতি দেন।

অর্থ বিভাগ ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, প্রস্তাবিত পে-স্কেল পুরোপুরি কার্যকর হলে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকা। এই আর্থিক চাপ সামলাতে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।

এর আগে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের বেতন কমিশন গত ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।

বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর বেতন-ভাতা বাবদ সরকারের বার্ষিক ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় এক লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।