সংকটেও বাড়ছে ইসলামী ব্যাংকের আমানত
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি ।   ছবি: আরটিএনএন

দেশের ব্যাংকিং খাতের চলমান সংকটের মধ্যেও আমানত সংগ্রহে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। ব্যাংকটির আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৮৭ হাজার কোটি টাকা।

 ব্যাংকটির হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের মোট আমানতের পরিমাণ এ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং খাতের মোট আমানতের পরিমাণ প্রায় ২১ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ইসলামি ব্যাংকিং খাতের মোট আমানত প্রায় ৪ লাখ ৭৪ হাজার কোটি টাকা। খাতটির মোট আমানতের প্রায় ৩৯ শতাংশ এককভাবে ইসলামী ব্যাংকের হাতে রয়েছে।

ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের শীর্ষ ব্যাংকগুলোর মধ্যে সাধারণত ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বাজার অংশীদারত্ব দেখা গেলেও ইসলামী ব্যাংকের অবস্থান তুলনামূলক বেশি শক্তিশালী।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি গ্রাহক ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করছেন। ব্যাংকটির রয়েছে ৪০০টি শাখা, ২৭৬টি উপশাখা এবং প্রায় ২ হাজার ৮০০ এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট।

রেমিট্যান্স আহরণেও ব্যাংকটি শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালে দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ৪ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৭৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে, যা মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ১৯ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের সময়েও ইসলামী ব্যাংক তুলনামূলক স্থিতিশীল অবস্থানে থাকতে পেরেছে।

শিল্প, কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং আমদানি-রপ্তানি খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকটি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৮৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানে ভূমিকা রেখেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া গ্রামীণ উন্নয়ন ও নারী উদ্যোক্তা তৈরির বিভিন্ন কার্যক্রমেও ব্যাংকটির অংশগ্রহণ রয়েছে।

ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলতাফ হুসাইন বলেন, গ্রাহকের আস্থার কারণেই ব্যাংকটির আমানত ও গ্রাহকসংখ্যা বাড়ছে। বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ গ্রাহকসেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

ব্যাংক সূত্র জানায়, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণেও কাজ করছে ইসলামী ব্যাংক। ২০৩০ সালের মধ্যে ব্যাংকটির অধিকাংশ লেনদেন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া শরিয়াহভিত্তিক বন্ড বা ‘সুকুক’-ভিত্তিক বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।