বৈশ্বিক অস্থিরতায় অর্থনৈতিক নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও প্রবাসী আয়। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক গতি সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্ধারিত হিসাব পদ্ধতি ‘বিপিএম-৬’ অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশের নিট রিজার্ভের পরিমাণ ২৯ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রিজার্ভের এ অবস্থান দেশের বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, মে মাসের শুরু থেকেই প্রবাসী আয়ের প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি মাসের প্রথম ১৩ দিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১৭৪ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১২৬ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার।
বিশেষ করে ১৩ মে এক দিনেই দেশে এসেছে ১৩ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, যা চলতি মাসের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহের রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে প্রবাসীদের আগ্রহ বৃদ্ধি, বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে সরকারের নানা উদ্যোগ এবং ডলারের বিনিময় হার অনুকূলে থাকায় রেমিট্যান্স প্রবাহে এই ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ১ জুলাই থেকে ১৩ মে পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ১০৭ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৫৮০ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। সে হিসাবে চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রবাহে ২০ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রবাসী আয়ের এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এতে একদিকে যেমন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হচ্ছে, অন্যদিকে আমদানি ব্যয় মেটানো, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের জন্য এটি একটি বড় অর্জন। বিশ্ববাজারে অস্থিরতা, জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈদেশিক লেনদেনের চাপের মধ্যেও রেমিট্যান্স ও রিজার্ভে ইতিবাচক প্রবণতা দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
এসএস
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!