দেশের গ্রামীণ ও স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে আরও টেকসই ও পরিবেশবান্ধব করে গড়ে তুলতে এক হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই তহবিল থেকে উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ সুদে ঋণ সুবিধা পাবেন।
সোমবার (১৮ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি নীতিমালা জারি করে সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে গঠিত ৫ হাজার কোটি টাকার ‘গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড’ (জিটিএফ) থেকে গ্রামীণ ও স্থানীয় শিল্পের জন্য আলাদাভাবে এই ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। মূলত স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যের মানোন্নয়ন এবং পরিবেশের ক্ষতি কমিয়ে উৎপাদন প্রক্রিয়া আধুনিকায়ন করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন নীতিমালার আওতায় পরিবেশবান্ধব যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানি কিংবা স্থানীয়ভাবে তৈরি প্রযুক্তি ক্রয়ের জন্য এই ঋণ দেওয়া হবে। এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি, পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পুনর্ব্যবহার কার্যক্রম (রিসাইক্লিং) এবং কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়নের মতো খাতে এই অর্থ ব্যয় করা যাবে।
সুদহার ও ঋণের মেয়াদ
তহবিলটির আওতায় অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে মাত্র ১ শতাংশ সুদে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা পাবে। গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার হবে ৫ শতাংশ। প্রকল্পের ধরন অনুযায়ী এই ঋণের মেয়াদ হবে ২ থেকে ৫ বছর। এছাড়া ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু করার আগে সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত ‘গ্রেস পিরিয়ড’ বা রেয়াতকাল সুবিধা পাবেন উদ্যোক্তারা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, একজন উদ্যোক্তা এই তহবিলের আওতায় সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। প্রকল্পের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনা বা আমদানির মোট ব্যয়ের সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যাংক থেকে অর্থায়ন করা যাবে। বাকি ২০ শতাংশ উদ্যোক্তাকে নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দিতে হবে।
তবে এই ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পে ব্যবহৃত মোট বিদ্যুৎ চাহিদার অন্তত ১০ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎসহ অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে মেটানোর সক্ষমতা থাকতে হবে। এছাড়া কোনো ঋণখেলাপি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই তহবিলের আওতায় ঋণ নিতে পারবে না।
রাষ্ট্রায়ত্ত সব ব্যাংক এই তহবিল থেকে ঋণ বিতরণ করতে পারবে। তবে বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকের ক্ষেত্রে খেলাপি ঋণের হার ২০ শতাংশের নিচে থাকার শর্ত দেওয়া হয়েছে। যেসব ব্যাংক ইতিমধ্যে গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ডের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি করেছে, তাদের নতুন করে কোনো চুক্তির প্রয়োজন হবে না।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!