স্টক এক্সচেঞ্জের প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেই দ্রুত কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার ফারজানা লালারুখ।
তিনি বলেন, ডেরিভেটিভস বাজারকে এগিয়ে নিতে কমিশন কাজ করছে। যেহেতু এটি একটি নতুন ধারণা, তাই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শেষ করতে সময় লাগছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি ও সমস্যাগুলো বিবেচনায় নিয়ে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রবিবার (১০ মে) চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ও ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) আয়োজিত ‘কমোডিটি এক্সচেঞ্জ: বাংলাদেশ প্রাসপেক্টিভ’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি সিএমজেএফ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান একেএম হাবিবুর রহমান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার। সভাপতিত্ব করেন সিএমজেএফ সভাপতি মনির হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব রাসেল।
ফারজানা লালারুখ আরও বলেন, কমোডিটি ডেরিভেটিভস মার্কেট চালুর আগে এর ভিত্তি শক্তিশালী করা হচ্ছে। অতীতের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা, বিশেষ করে মিউচুয়াল ফান্ড খাতের চ্যালেঞ্জগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে সতর্কভাবে এগোনো হচ্ছে।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান একেএম হাবিবুর রহমান জানান, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুর জন্য এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। প্রস্তুতির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বিদেশ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে টিম গড়ে তোলা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিও প্রস্তুত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কিছু কমপ্লায়েন্স ও নীতিগত কারণে বিলম্ব হচ্ছে। তবে চলতি বছরের মধ্যেই এটি চালু করার লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এটি কোনো সরাসরি পণ্য বেচাকেনার প্ল্যাটফর্ম নয়। এখানে ফিউচার কন্ট্রাক্ট সেটেলমেন্ট হবে। প্রথম ধাপে ক্যাশ সেটেলমেন্ট চালু করা হবে, পরে ধাপে ধাপে ফিজিক্যাল ডেলিভারি যুক্ত করা হবে।
সিএসই ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, নিয়ন্ত্রক বিএসইসির সঙ্গে সমন্বয়হীনতাসহ কয়েকটি কারণে বাংলাদেশে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু হতে দেরি হচ্ছে। সিএসইর প্রস্তুতি অনুযায়ী কমোডিটি এক্সচেঞ্জ এখন থেকে দেড়-দুই বছর আগে চালু করা সম্ভব ছিলো। কিন্তু সরকার পরিবর্তন ও বারবার নীতির পরিবর্তনের কারণে এটি চালু করতে দেরি হচ্ছে।
তিনি বলেন, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ বা ডেরিভেটিস বিশ্বব্যাপী ক্যাপিটাল মার্কেটের পণ্য। এটি বাংলাদেশে ২০২৩ সালে শুরুর কথা থাকলেও যথাযথ প্রস্তুতির অভাবে সেটি করা সম্ভব হয়নি। এটি আমাদের দেশে নতুন ধারনা, তাই অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হচ্ছে। এজন্য দেরি করতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ২০০৫-২০০৬ সাল থেকে পাকিস্তানে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু আছে। ভারতে তারও আগে থেকে চালু আছে। আমাদের দেশে দেরিতে চালু হওয়ার কারণ হলো, এটি নিয়ে অনেক সচেতনা বাড়ানোর বিষয় ছিলো, যেটি আমরা করছি। যদিও আমাদের প্রস্তুতি অনুযায়ী দেড়-দুই বছর আগে এটি চালু করার সুযোগ ছিলো। রেগুলেটরি বডির সঙ্গে সমন্বয়হীনতাসহ কিছু কারণে এটি আসতে দেরি হচ্ছে।
সিএসইর এমডি বলেন, স্টক এক্সচেঞ্জের টেকনোলজির সক্ষমতা এখনো ৬০ শতাংশের বেশি বর্হিবিশ্ব নির্ভর। আমাদের কমোডিটিজের জন্য প্রয়োজনীয় টেকনোলজিসও দেশের বাইরে থেকে আনতে হয়েছে। এতে কিছুটা দেরি হয়েছে। রুলস অনুযায়ী কমোডেটিস মার্কেটের জন্য আলাদা ব্রোকার তৈরি করতে হয়েছে। এজন্যও দেরি হয়েছে। সব শেষ করেও এটি দেড়-দুই বছর আগে চালু করা সম্ভব ছিলো, যেটি সমন্বিতহীনতার কারণে সম্ভব হয়নি।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!