ঋণের সুদে বাড়তি চাপ, ছয় মাসে ব্যয় ৭১ হাজার কোটি টাকা
ঋণের সুদে বাড়তি চাপ, ছয় মাসে ব্যয় ৭১ হাজার কোটি টাকা।   ফাইল ছবি

চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই–ডিসেম্বর) সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭১ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে এ ব্যয় বেড়েছে প্রায় ২২ শতাংশ, যা বাজেট ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

অর্থ বিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, মোট সুদ ব্যয়ের বড় অংশই এসেছে দেশীয় ঋণ থেকে, যার পরিমাণ প্রায় ৮৭ শতাংশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশীয় ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় হয়েছে ৬১ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা। আর বৈদেশিক ঋণের সুদ দিতে হয়েছে ৯ হাজার ৩৮৭ কোটি টাকা।

দেশীয় ঋণের সুদ ব্যয়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গেছে ট্রেজারি সিকিউরিটিজে—৩৭ হাজার ৮৯৬ কোটি টাকা। এরপর জাতীয় সঞ্চয়পত্রে সুদ পরিশোধ করা হয়েছে ২৩ হাজার ৯৭০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশের প্রধান বৈদেশিক ঋণদাতাদের মধ্যে রয়েছে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, জাপান ও রাশিয়া।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে সরকার দীর্ঘমেয়াদি ঋণের দিকে ঝুঁকেছে। মোট দেশীয় ঋণের ৬৬ শতাংশই এসেছে সরকারি সিকিউরিটিজ থেকে, ২৭ শতাংশ জাতীয় সঞ্চয়পত্র থেকে এবং বাকি অংশ সাধারণ ভবিষ্য তহবিল (জিপিএফ) থেকে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জাতীয় সঞ্চয়পত্রে নেওয়া সংস্কারগুলো ভবিষ্যতে রাজস্বের চাপ কমাতে এবং ঋণের কাঠামোয় ভারসাম্য আনতে সহায়ক হবে।

এদিকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশের মোট সরকারি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা, যা জুন শেষে ছিল ২১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা। এ সময়ে ঋণ বেড়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ।
বর্তমানে সরকারের মোট ঋণের মধ্যে দেশীয় ঋণের অংশ বেশি। ডিসেম্বর শেষে মোট ঋণের ৫৭ শতাংশ ছিল দেশীয় এবং ৪৩ শতাংশ বৈদেশিক।

বৈদেশিক মুদ্রা ঝুঁকি কমাতে সরকার দেশীয় ঋণের ওপর জোর দিচ্ছে। এতে স্থানীয় বাজারে তারল্য বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিময় হার ওঠানামার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হচ্ছে।

তবে দেশীয় ঋণ বাড়লে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, বর্তমানে শক্তিশালী ব্যাংকগুলোতে পর্যাপ্ত তারল্য, সরকারি সিকিউরিটিজের সুদের হার কমে আসা এবং বেসরকারি খাতে ঋণ চাহিদা কম থাকায় এ ধরনের চাপ তৈরি হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ তারল্য কাজে লাগিয়ে সরকার একটি স্থিতিশীল আর্থিক কাঠামো গড়ে তুলতে চায়, যাতে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহে বড় ধরনের চাপ না পড়ে।