একীভূত হওয়া পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের ভবিষ্যৎ এবং আমানতকারীদের সুরক্ষা নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা চেয়েছেন সেখানে নিয়োজিত প্রশাসকরা। পুরোনো মালিকদের আবারও ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে ফেরার আইনি সুযোগ তৈরি হওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংক পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে জানিয়ে প্রশাসকেরা গতকাল রোববার (২৬ এপ্রিল) গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করে উদ্বেগের কথা জানান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নবগঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-এর দায়িত্বে থাকা প্রশাসকেরা গভর্নরের কাছে জানতে চেয়েছেন—একীভূতকরণ প্রক্রিয়া কি আগের মতোই চলবে, নাকি পুরোনো মালিকেরা ফিরে আসবেন? যদি পুরোনো মালিকেরা ফিরে আসেন, তবে আমানতকারীদের পাওনা কীভাবে মেটানো হবে, সে বিষয়ে পরিষ্কার নীতিমালা প্রয়োজন।
এই সংকটের মূলে রয়েছে সম্প্রতি পাস হওয়া ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬’-এর নতুন একটি ধারা (১৮-ক)। এতে বলা হয়েছে, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাওয়া আর্থিক সহায়তার মাত্র ৭ দশমিক ৫ শতাংশ পরিশোধ করে আগের মালিকেরা আবারও ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে পারেন। একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে এক্সিম ব্যাংক ছিল নাসা গ্রুপের নজরুল ইসলাম মজুমদারের কবজায়, আর বাকি চারটি (সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী) ছিল এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে।
বৈঠকে প্রশাসকেরা জানান, ব্যাংকগুলো একীভূত করার পর গ্রাহকদের মধ্যে আস্থা ফিরতে শুরু করেছিল। কিন্তু নতুন আইনের খবর জানাজানি হওয়ার পর প্রতিদিন আমানতকারীরা টাকা তোলার জন্য চাপ দিচ্ছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে অনেক গ্রাহক কোনো মুনাফা ছাড়াই শুধু আসল টাকা ফেরত চাইছেন। নতুন আমানত আসা তো বন্ধ হয়েছেই, এমনকি আগের দেওয়া ঋণের টাকা আদায়ও প্রায় থমকে গেছে।
প্রশাসকদের এই উদ্বেগের বিপরীতে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান বা সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেননি। তিনি শুধু জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চরম সংকটে থাকা এই পাঁচ ব্যাংককে রক্ষা করতে এ পর্যন্ত ৪৭ হাজার ৮৪ কোটি টাকা নগদ সহায়তা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এছাড়া সরকার মূলধন হিসেবে দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। আমানতকারীদের টাকা ফেরত নিশ্চিত করতে বিমা তহবিল থেকে দেয়া হয়েছে আরও ১২ হাজার কোটি টাকা।
ব্যাংকগুলোর আর্থিক চিত্র এখন ভয়াবহ। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত এই পাঁচ ব্যাংকের মোট ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৯৬ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা, যার মধ্যে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৭৮১ কোটি টাকাই খেলাপি হয়ে গেছে। অর্থাৎ এই ব্যাংকগুলোর ৮৪ শতাংশ ঋণই এখন আদায় অযোগ্য। এ ছাড়া ব্যাংকগুলোর মোট মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ব্যাংক খাতের সংস্কারে একীভূতকরণের যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল, পুরোনো মালিকদের ফেরার সুযোগ রাখা সেই প্রক্রিয়াকে গভীর সংকটে ফেলেছে। প্রশাসকদের এই লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়ার বিষয়টিই প্রমাণ করে যে ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এখন কতটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
রাসেল/এসএস
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!