নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) খাতে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা আমানত ফেরতের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে ৬টি প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের জোট। তাদের দাবি, বর্তমানে দুই হাজারেরও বেশি পরিবার এই খাতে বিনিয়োগ করা অর্থ না পেয়ে চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক যৌথ বিবৃতিতে তারা জানায়, প্রায় সাত বছর ধরে অব্যবস্থাপনা, দুর্বল সুশাসন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিলম্বিত পদক্ষেপের কারণে আমানতকারীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
ব্যাংকিং খাতে বিভিন্ন সংস্কার ও আমানত সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু হলেও এনবিএফআই খাতে তা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হয়নি বলেও অভিযোগ তাদের।
বিবৃতিতে বলা হয়, ব্যাংক খাতে যেসব পুনরুদ্ধার ও সুরক্ষা কাঠামো চালু রয়েছে, তা প্রয়োজনীয় পরিবর্তনসহ এনবিএফআই খাতেও বাস্তবায়ন করতে হবে।
“আমানতকারী মানেই আমানতকারী—তা ব্যাংকে হোক বা এনবিএফআই-এ”—এই নীতির ভিত্তিতে উভয় খাতেই সমান সুরক্ষা, ন্যায্য ক্ষতিপূরণ এবং দ্রুত অর্থ ফেরত নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
জোটের পক্ষ থেকে ৩৬ মাসের মধ্যে আমানত ফেরতের জন্য সুস্পষ্ট ও সময়সীমাবদ্ধ রোডম্যাপ ঘোষণা, সমস্যাগ্রস্ত এনবিএফআইগুলোর দ্রুত পুনরুদ্ধার কার্যক্রম বাস্তবায়ন, ব্যাংক খাতের সমমানের নিয়ন্ত্রক সুরক্ষা নিশ্চিত করা, লিকুইডেশন ও পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ দাবি তুলে ধরা হয়।
ভুক্তভোগীদের করুণ অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ভুক্তভোগী আক্তারা বেগম বলেন, তার স্বামী মৃত্যুর আগে ১৬ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন লাভের আশায়। কিন্তু সেই টাকা না পাওয়ায় তিনি স্বামীর চিকিৎসাও করাতে পারেননি। বর্তমানে ছেলে সন্তানদের নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন তিনি।
তিনি বলেন, “আমার কোনো ভাষা নেই। আমি কিভাবে চলব, জানি না। আমার স্বামী আশা করেছিলেন টাকাটা পেলে চিকিৎসা করবেন। সেই আশা নিয়েই তিনি চলে গেছেন।”
আরেক ভুক্তভোগী নাসিদ জানান, প্রায় সাত বছর আগে আন্দোলনের পর নতুন বোর্ড গঠন করা হলেও ধাপে ধাপে মাত্র ১০% করে সীমিত পরিমাণ অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে। তাও পেতে ৬ থেকে ১০ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে, যা জরুরি প্রয়োজনে থাকা মানুষের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর।
তিনি আরও বলেন, আবেদন করার পর টাকা পেতে ৫–৬ মাস সময় লাগা অমানবিক। এমনকি একজন আমানতকারী টাকা না পাওয়ার খবর শুনে ঘটনাস্থলেই অসুস্থ হয়ে মারা যান—যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে।
জোটের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পুরো প্রক্রিয়াটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। অনেক আমানতকারী চিকিৎসা, বিয়ে বা দৈনন্দিন খরচ চালাতে গহনা বিক্রি কিংবা ঋণ নিতে বাধ্য হয়েছেন।
জোটের পক্ষ থেকে সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তারা বলছেন, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে আর্থিক খাতে আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।
তারা স্পষ্টভাবে জানান, আমানতের পুরো অর্থ ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত তারা আইনসম্মত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!