বিএসইসি,জরিমানা,আদায়
১৫শ কোটি জরিমানা, আদায় ৫ কোটি: আস্থার চ্যালেঞ্জে বিএসইসি।   ছবি: সংগৃহীত

পুঁজিবাজারে অনিয়ম দমনে গত ১৮ মাসে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার জরিমানা আরোপ করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তবে এ বিপুল অর্থের বিপরীতে আদায় হয়েছে মাত্র ৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা। জরিমানা আরোপ ও আদায়ের এই বড় ব্যবধান নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির পদক্ষেপের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বাজার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।

বিএসইসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে এখন পর্যন্ত ১১৪টি অনুসন্ধান ও তদন্ত এবং ৬৪টি পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় মোট ১ হাজার ৪৮৮ কোটি টাকার জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি মানি লন্ডারিং সংশ্লিষ্ট ১৬টি মামলা দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের একাংশের মতে, জরিমানার এই বড় অঙ্ক নিকট ভবিষ্যতে আদায় হওয়ার সম্ভাবনা কম। এতে একদিকে বিনিয়োগকারীদের আস্থা প্রত্যাশিতভাবে ফিরছে না, অন্যদিকে কমিশনের ওপর আইনি চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, শুধু বড় অঙ্কের জরিমানা আরোপ করলেই সমস্যার সমাধান হয় না। “দণ্ড আরোপের আগে দেখতে হবে, তা আদায়যোগ্য কি না। তদন্তে আরও গভীরে গিয়ে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করা জরুরি,” বলেন তিনি।

তার মতে, পর্যাপ্ত অনুসন্ধানের ঘাটতির কারণে অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করা যায়নি। এতে এসব বিষয় আদালতে গড়াতে পারে এবং নিষ্পত্তি হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সাবেক সভাপতি আহমেদ রশিদ লালীও মনে করেন, বড় অঙ্কের এসব জরিমানা বাস্তবে আদায় করা কঠিন হবে। “এগুলো আদালতে যাবে এবং নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লাগবে। জরিমানার ভিত্তি স্পষ্টভাবে দেখাতে না পারলে আইনি জটিলতা তৈরি হবে,” বলেন তিনি।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, অনেক ক্ষেত্রে কাগুজে লাভের ওপর ভিত্তি করে জরিমানা নির্ধারণ করা হয়, যদিও বাস্তবে পুরো শেয়ার বিক্রি করা সম্ভব হয় না। এতে জরিমানার হিসাব নিয়ে প্রশ্ন ওঠার সুযোগ থাকে।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলামও মনে করেন, নিকট ভবিষ্যতে এসব জরিমানা আদায় সম্ভব নয়। 

তার ভাষায়, “জরিমানাপ্রাপ্তরা আদালতের আশ্রয় নেবেন। এতে কমিশনের ওপর মামলা পরিচালনার চাপ বাড়বে।”

তবে এসব আশঙ্কার বিপরীতে বিএসইসি বলছে, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই জরিমানা আরোপ করা হয়েছে এবং নির্ধারিত সময় শেষে তা আদায় সম্ভব হবে।

সম্প্রতি এক সেমিনারে বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেন, “আইন অনুযায়ী জরিমানাপ্রাপ্তরা নির্দিষ্ট সময় পান। অনেকেই আদালতে যাচ্ছেন। তবে আইনের প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করেই জরিমানা করা হয়েছে। ২০২৭ হোক বা ২০২৮—এই অর্থ আমরা আদায় করতে পারব।