লোকসান,ওয়েস্টার্ন মেরিন,লভ্যাংশ,বঞ্চিত,শেয়ারহোল্ডার,
টানা লোকসানে ওয়েস্টার্ন মেরিন, লভ্যাংশ বঞ্চিত শেয়ারহোল্ডাররা।   ছবি: সংগৃহীত

বিপুল ঋণের ভার, দুর্বল বিক্রি ও ধারাবাহিক লোকসানের চাপে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড কার্যত সংকটে পড়েছে। এতে টানা পাঁচ বছর ধরে লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কোম্পানিটির সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২৩৫ কোটি ২০ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের বিপরীতে কোম্পানিটির মোট ঋণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৬৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা, যা মূলধনের প্রায় ১০ গুণ।

নিরীক্ষকের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বড় অঙ্কের ঋণ গ্রহণ করা হলেও সে তুলনায় পণ্য বিক্রি বাড়াতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। এতে পরিচালন দক্ষতার ঘাটতি স্পষ্ট হয়েছে। এমন পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে কোম্পানিটির ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে কোনো লভ্যাংশ দেয়নি ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড। সর্বশেষ ২০২০ সালে মাত্র ৩ শতাংশ লভ্যাংশ দেয় কোম্পানিটি, যার মধ্যে ০.৫ শতাংশ ছিল নগদ এবং ২.৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ধারাবাহিক লোকসান ও নগদ সংকটের কারণে বিনিয়োগকারীরা প্রত্যাশিত রিটার্ন পাচ্ছেন না, যা বাজারে আস্থার সংকট তৈরি করছে।

কোম্পানির আর্থিক বিবরণীতে দেখা যায়, ১৯টি ব্যাংক ও লিজিং প্রতিষ্ঠানের কাছে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের পরিমাণ ২ হাজার ২৪৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। এর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের চলতি অংশ হিসেবে স্বল্পমেয়াদি ঋণ রয়েছে আরও ১১৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

তবে মোট ৩১টি ঋণ হিসাবের মধ্যে মাত্র ৭টি ব্যাংক ও লিজিং প্রতিষ্ঠান নিরীক্ষকদের কাছে ঋণের তথ্য নিশ্চিত করেছে। এতে কোম্পানিটির আর্থিক তথ্যের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ঋণের বড় অংশই নেওয়া হয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে, যেখানে কোম্পানিটির দায় ১ হাজার ৬০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এ ছাড়া ব্যাংক এশিয়া থেকে ৫০৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা, সোনালী ব্যাংক থেকে ২০৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা এবং মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক থেকে ১৬৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে।

গত পাঁচ অর্থবছরের (২০২১-২০২৫) মধ্যে চার বছরই লোকসান করেছে কোম্পানিটি। শুধু ২০২৩-২৪ অর্থবছরে নামমাত্র শেয়ারপ্রতি ০.০৪ টাকা মুনাফা করতে পেরেছিল। তবে এই সামান্য মুনাফাও শেয়ারহোল্ডারদের জন্য কোনো স্বস্তি আনতে পারেনি।

২০১৪ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৩০ দশমিক ০১ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের হাতে রয়েছে ৫৪ দশমিক ৬০ শতাংশ শেয়ার।

আজ রোববার (২৫ মার্চ) কোম্পানিটির শেয়ার সর্বশেষ ৯ টাকা ১০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঋণের ভার কমানো, উৎপাদন ও বিক্রি বাড়ানো এবং আর্থিক শৃঙ্খলা ফেরাতে না পারলে কোম্পানিটির সংকট আরও গভীর হতে পারে। এতে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরাই।