খুমেক হাসপাতালে আগুন, রোগী স্থানান্তরের সময় আইসিইউতে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
খুমেক হাসপাতালে আগুন, রোগী স্থানান্তরের সময় আইসিইউতে একজনের মৃত্যু হয়েছে।   ছবি: আরটিএনএন

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (খুমেক) পুরোনো আইসিইউ ইউনিটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রোগী স্থানান্তরের সময় একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুইজন নার্স ও একজন ফায়ার সার্ভিস সদস্য রয়েছেন।

বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চারতলা ভবনের তৃতীয় তলায় পুরোনো আইসিইউ ইউনিটের পাশের একটি স্টোররুমে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, অগ্নিকাণ্ডের পর এক নম্বর আইসিইউতে থাকা ১৫ জন রোগীকে দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় একজন রোগীর মৃত্যু হয়। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আরও একজন রোগী আগুন লাগার আগেই ভোর ৫টার দিকে মারা গিয়েছিলেন।

আহতরা হলেন হাসপাতালের স্টাফ সাইদুর রহমান, সিনিয়র স্টাফ নার্স নওরিন, দিপালী ও শারমিন এবং ফায়ার সার্ভিস সদস্য তৌহিদ।

হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ ডা. দিলীপ কুমার জানান, পুরোনো আইসিইউ ভবনের পাশের একটি কক্ষে শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। সেখানে পুরোনো কাপড় ও কিছু সরঞ্জাম রাখা ছিল। আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর কয়েকটি অক্সিজেন সিলিন্ডার ও পুরোনো এসি বিস্ফোরিত হয়। এতে দেয়ালের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পুরো এলাকায় ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, আইসিইউতে থাকা রোগীদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে একজন রোগী আগুন লাগার আগেই মারা যান এবং আরেকজন রোগী স্থানান্তরের সময় মারা যান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের শব্দে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই দ্রুত ভবন থেকে নিচে নেমে আসেন। আইসিইউর রোগীদেরও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়। হাসপাতালের সামনের সড়ক ও মাঠে রোগী ও স্বজনদের জড়ো হতে দেখা যায়। আতঙ্কে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।

ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক সরকার মাসুদ আহমেদ জানান, সকাল ৬টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রথমে বয়রা স্টেশন থেকে তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। পরে আরও ইউনিট যোগ দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, চারতলা ভবনের তৃতীয় তলার স্টোররুমে আগুন লাগে। শুরুতে কয়েকটি গেটে তালা থাকায় ভেতরে প্রবেশে কিছুটা বাধা তৈরি হয়। পরে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। ব্যালকনি থেকে চার থেকে পাঁচজনকে উদ্ধার করা হয়। প্রায় ৪৫ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ৫৫ মিনিটের মধ্যে পুরোপুরি আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়।

প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক ত্রুটি বা শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস।