দেশে বহুমাত্রিক প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা , বাড়ছে বৈষম্যের শঙ্কা 
দেশে বহুমাত্রিক প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা , বাড়ছে বৈষম্যের শঙ্কা ।   ছবি: সংগৃহীত

দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বহুমাত্রিক বিভাজন ও বৈষম্য ভবিষ্যতে বড় সামাজিক সংকটে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা। 

একটি রাষ্ট্রে নাগরিকদের জন্য সমন্বিত ও সমান সুযোগভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন হলেও বাংলাদেশে এখনও বহু ধারার শিক্ষা কাঠামো কার্যকর রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা।

‘শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ও জাতীয় উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট সংলাপে এ উদ্বেগ তুলে ধরা হয়। 

মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকাল ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

সংলাপে উপস্থাপিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে দেশে ১৩ ধরনের প্রাথমিক শিক্ষাক্রম এবং ২৪ ধরনের প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেন, মাদ্রাসা, ইংরেজি মাধ্যম ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত।

গবেষকদের মতে, শিক্ষার বিভিন্ন ধারার কারণে একই বয়সের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠ্যসূচি, মান, দক্ষতা ও সুযোগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পার্থক্য তৈরি হচ্ছে। এতে সমাজে একটি শ্রেণিভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

আলোচনায় আরও বলা হয়, দেশে এখনো সমন্বিত শিক্ষা আইন প্রণয়ন হয়নি। ১৯৯০ সালে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন জারি হলেও এর কার্যকর বাস্তবায়ন দৃশ্যমান নয়। সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদে সর্বজনীন শিক্ষা ব্যবস্থার কথা উল্লেখ থাকলেও তা পুরোপুরি বাস্তব রূপ পায়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষায় সমতা নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে সামাজিক ভারসাম্য ও জাতীয় ঐক্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।