চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে শিশু ও গণশিক্ষা শিক্ষকদের সংবাদ সম্মেলন
সংবাদ সম্মেলনের দৃশ্য।   ছবি: আরটিএনএন

মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের শিক্ষক ও কেয়ারটেকারসহ সকল জনবলকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরসহ চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে পঞ্চগড়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

সোমবার (১৮ মে) দুপুরে পঞ্চগড় মিডিয়া হাউজে মউশিক শিক্ষক কল্যাণ পরিষদ বাংলাদেশ পঞ্চগড় জেলা কমিটির উদ্যোগে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। একই সাথে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মউশিক শিক্ষক কল্যাণ পরিষদ বাংলাদেশের পঞ্চগড় কমিটির সভাপতি মাওলানা মো. আবুল বাশার। 

এসময় উপস্থিত ছিলেন, পঞ্চগড় সদর উপজেলা কমিটির সভাপতি মাওলানা মো. জাহেদুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শিরিনা আক্তার, দপ্তর বিষয়ক সম্পাদক ফয়জুল হক, কার্যনির্বাহী সদস্য জাহানারা বেগম প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যে বক্তারা জানান, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের অধীনে পরিচালিত মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্প দেশের তৃণমূল পর্যায়ে শিশুদের নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। 

তবে প্রকল্পভিত্তিক চাকুরী হওয়ার কারণে এই কার্যক্রমের সাথে জড়িত শিক্ষক, শিক্ষিকা এবং কেয়ারটেকাররা দীর্ঘদিন ধরে নানা সুযোগ-সুবিধা ও চাকরিগত অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। বর্তমানে ৬ হাজার টাকা ভাতা দেয়া হচ্ছে। তবে দ্রব্যমূল্যর উর্ধ্বগতিতে পরিবার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সন্তান লেখাপড়া খরচ সহ চাহিদা তারা পূরণ করতে পারছেন না। 

বক্তারা বলেন, দেশের শিক্ষা বিস্তার ও নৈতিক সমাজ গঠনে অবদান রাখা এই বিশাল জনবলকে দ্রুত রাজস্ব খাতের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি। প্রাথমিক বিদ্যালয় ও এমপিও ভুক্ত মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষকদের রাজস্ব খাতে নেয়া হলেও মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিকার কার্যক্রমের শিক্ষকদের কেন নেয়া হবে না। অথচ এই শিক্ষকেরাও তো তাদের মতই শিক্ষা দান করেন। 

সংবাদ সম্মেলন থেকে তাদের দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট জোর দাবি জানানো হয় এবং এই লক্ষ্যে ইতিমধ্যে একটি স্মারকলিপিও প্রদান করা হয়েছে বলে নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে সরকার দ্রুত এই প্রকল্পের সকল কর্মকর্তা- কর্মচারীকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করে তাদের দীর্ঘদিনের দুঃখ লাঘব করবে।