রাজবাড়ীর কুরবানির হাট কাঁপাবে ‘রাজা’
রাজবাড়ীর কুরবানির হাট কাঁপাবে ‘রাজা’   ছবি: আরটিএনএন

আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজবাড়ীর কুরবানির পশুর হাটে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে বিশালাকৃতির এক ষাঁড়। নাম তার ‘রাজা’। রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হোসেনডাঙ্গা গ্রামের খামারি মোহাম্মদ আলীর ঘরে পরম যত্নে বেড়ে ওঠা শাহীওয়াল জাতের এই ষাঁড়টির ওজন প্রায় ৩৭ মণ। বিশালাকৃতির এই রাজাকে দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন মোহাম্মদ আলীর খামারে।

খামারি মোহাম্মদ আলী জানান, কোনো ধরনের ক্ষতিকর ইনজেকশন বা কৃত্রিম মোটাতাজাকরণ ওষুধ ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে প্রায় তিন বছর ধরে পরম যত্নে লালন-পালন করা হয়েছে রাজাকে। কাঁচা ঘাস, ভুসি ও প্রাকৃতিক নানা পুষ্টিকর খাবার খাইয়ে কুরবানির হাটের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে এই ষাঁড়টিকে। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লাখ টাকা।

মোহাম্মদ আলীর খামারে শুধু রাজা নয়, বর্তমানে গাভীসহ মোট ৫টি গরু রয়েছে। এর মধ্যে আরও ৩টি ষাঁড় কুরবানির ঈদে বিক্রির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যেগুলোর একেকটির দাম ১ লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত। পাশাপাশি খামারে রয়েছে একটি দুগ্ধজাত গাভীও।

মোহাম্মদ আলীর খামারি হয়ে ওঠার গল্পটি বেশ অনুপ্রেরণার। ২০১৫ সালে মাত্র তিনটি গরু নিয়ে তিনি এই ডেইরি ফার্মের যাত্রা শুরু করেছিলেন। এরপর কঠোর পরিশ্রম ও পরিবারের সহযোগিতায় ছোট সেই উদ্যোগ আজ একটি সফল খামারে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, রাজ শুধু একটি বিশাল গরু নয় এটি মোহাম্মদ আলীর পরিশ্রম, ধৈর্য ও স্বপ্নের প্রতীক। তার এই সাফল্য দেখে এলাকার অনেক বেকার তরুণ এখন স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন এবং খামার গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।

নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তরুণদের উদ্দেশ্যে খামারি মোহাম্মদ আলী বলেন, চাকরির পেছনে না ছুটে তরুণরা যদি সঠিক পরিকল্পনায় উদ্যোক্তা হতে পারেন, তবে নিজেদের পাশাপাশি সমাজের অর্থনীতিতেও বড় অবদান রাখা সম্ভব।

জানতে চাইলে রাজবাড়ী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. প্রকাশ রঞ্জন বিশ্বাস বলেন, মোহাম্মদ আলীসহ জেলার সব খামারেই আমাদের নিয়মিত তদারকি থাকে। এখানে গরুগুলো সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবারে লালন-পালন করা হচ্ছে, যা অন্যদের জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে খামারিদের সব ধরনের কারিগরি ও চিকিৎসাসেবা দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে।