চুয়াডাঙ্গার কয়েকটি দাখিল পরীক্ষা কেন্দ্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করে মাসব্যাপী শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
চুয়াডাঙ্গার কয়েকটি দাখিল পরীক্ষা কেন্দ্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করে মাসব্যাপী শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।   ছবি: আরটিএনএন

চুয়াডাঙ্গার কয়েকটি দাখিল পরীক্ষা কেন্দ্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করে মাসব্যাপী শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের মাদ্রাসা শাখা-১ থেকে ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জারি করা স্মারকের ৫ নম্বর নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পাবলিক পরীক্ষা কেন্দ্র থাকলে উক্ত মাদ্রাসায় পরীক্ষার সময় বিকল্প ব্যবস্থায় এবং কেন্দ্র ব্যতীত অন্যান্য মাদ্রাসায় যথারীতি শ্রেণি কার্যক্রম চালু থাকবে। কোনো অবস্থাতেই পাঠদান/শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখা যাবে না।

তবে জেলা সূত্রে অভিযোগ পাওয়া গেছে, দামুড়হুদা দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসা ও কার্পাসডাঙ্গা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার মতো কয়েকটি কেন্দ্র এ নির্দেশনা মানছেন না। দামুড়হুদা মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আসাদুল হক জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী শুধু পরীক্ষার দিন পাঠদান চালানো হচ্ছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার বিষয়ে তিনি অবগত নন।

অন্যদিকে আলমডাঙ্গা সিদ্দিকীয়া আলিম মাদ্রাসা, জীবননগর ফাজিল মাদ্রাসা এবং চুয়াডাঙ্গা কামিল মাদ্রাসা যথারীতি ক্লাস চালাচ্ছে। তবে কার্পাসডাঙ্গা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ অভিযোগ করেছেন, দামুড়হুদা একাডেমিক সুপারভাইজার রাফিজুল ইসলাম পরীক্ষার সময় পাঠদান বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। রাফিজুল ইসলাম এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

চুয়াডাঙ্গা জেলায় অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেসমিন আরা খাতুন জানান, এ ধরনের নির্দেশনার বিষয়ে তার জানা নেই। বিকল্প পাঠদান চালু হয়েছে কি না তা যাচাই করে বলা যাবে, তবে নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না— সে বিষয়ে স্পষ্ট উত্তর দেননি।

সারাদেশের মতো চুয়াডাঙ্গাতেও ২১ এপ্রিল থেকে দাখিল পরীক্ষা শুরু হয়েছে। জেলার চার উপজেলা—চুয়াডাঙ্গা সদর, আলমডাঙ্গা, দামুড়হুদা ও জীবননগরে মোট পাঁচটি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ বছর জেলায় মোট ১,১৫২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২৪৭ জন, আলমডাঙ্গা মহিলা কলেজ কেন্দ্রে ২৮৫ জন, দামুড়হুদা দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ২০৩ জন, কার্পাসডাঙ্গা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ১৬৩ জন এবং জীবননগরের শাপলা কলি আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২৫৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছেন।