চাঁদাবাজদের নিয়ে সংবাদ শেয়ার করায় কুপিয়ে জখম
ভাঙ্গা থানা, ফরিদপু।   ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক দুই যুবককে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার ঘটনায় প্রকাশিত সংবাদ ফেসবুকে শেয়ার করাকে কেন্দ্র করে সাইদুর রহমান ওরফে মিঠু শিকদার (৪২) নামে এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাত ৯টার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাপুড়িয়া সদরদী এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, দুই দফায় হামলা চালিয়ে তাকে কুপিয়ে জখম করা হয়।

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তানসিভ জুবায়ের জানান, সাইদুর রহমানের মাথা, পিঠ ও ডান পায়ে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিশেষ করে মাথায় গভীর জখম হওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে।

আহত সাইদুর রহমান কাপুড়িয়া সদরদী এলাকার শাহজাহান শিকদারের ছেলে। তিনি বর্তমানে ভাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন।

শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে সাইদুরের ছোট ভাই রাজু শিকদার অভিযোগ করেন, সোহান ও শোয়েব নামে দুই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন। গত ১২ মে পুলিশ তাদের আটক করলেও পরে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্লা থানায় গিয়ে তাদের ছাড়িয়ে আনেন। এ ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ সাইদুর ফেসবুকে শেয়ার করেছিলেন। সেই ক্ষোভ থেকেই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।

রাজুর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে সন্ধ্যায় লাঠি ও হাতুড়ি দিয়ে সাইদুরকে মারধর করা হয়। পরে রাত ৯টার দিকে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় আবারও হামলা চালিয়ে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, হামলার সময় পুলিশের সহায়তা চাইলেও তা পাওয়া যায়নি।

অভিযুক্ত সোহান মুন্সি (২৮) কাপুড়িয়া সদরদী এলাকার শাহী মুন্সির ছেলে এবং শোয়েব মোল্লা (৩০) হোগলাডাঙ্গী সদরদী এলাকার লিয়াকত মোল্লার ছেলে। ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্লা বলেন, হামলার ঘটনাটি নিন্দনীয় এবং যারা এ কাজ করেছে তারা ভুল করেছে। তিনি ওসিকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন বলেও জানান।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে হামলার সঙ্গে সংবাদ শেয়ার করার ঘটনার কোনো সম্পর্ক আছে কিনা, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন বলে জানান।

উল্লেখ্য, গত ১২ মে ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সার্বিক পরিবহনের এক চেকারের কাছ থেকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদাবাজির অভিযোগে সোহান মুন্সি ও শোয়েব মোল্লাকে আটক করে পুলিশ। পরে ওই রাতেই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্লা থানায় গিয়ে তাদের ছাড়িয়ে আনেন। এ সময়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনায় আসে।