প্রতিপক্ষের গুলিতে ‘রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী’ নিহত
প্রতিপক্ষের গুলিতে ‘রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী’ নিহত   ছবি: আরটিএনএন

কক্সবাজারের টেকনাফে নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে হাসান আহমেদ ওরফে ‘কালা হাসান’ (৪৫) নামে এক রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, নিহত হাসান পূর্বে ডাকাত বাহিনী ‘জকির গ্রুপের’ সক্রিয় সদস্য ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ-ব্লকে এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (১৫ মে) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক মোহাম্মদ কাউছার সিকদার।

নিহত হাসান আহমেদ নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ-ব্লকের ৬৩৪ নম্বর শেডের বাসিন্দা। তিনি সুলতান আহমেদের ছেলে।

এপিবিএন সূত্র জানায়, পূর্ব শত্রুতার জেরে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী সাদ্দাম ও তার সহযোগীরা সশস্ত্র অবস্থায় ক্যাম্পে প্রবেশ করে হাসানকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তার বুকের ডান পাশে গুলি লাগে এবং তিনি গুরুতর আহত হন। হামলার পর সন্ত্রাসীরা ক্যাম্পের পশ্চিম পাশের পাহাড়ি এলাকায় পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয় রোহিঙ্গারা আহত হাসানকে উদ্ধার করে প্রথমে ক্যাম্পসংলগ্ন জি/কে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।

এপিবিএন অধিনায়ক মোহাম্মদ কাউছার সিকদার বলেন, ক্যাম্পের আধিপত্য বিস্তার, মসজিদ কমিটি নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার কথা বলে মুচনী রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের কমিটির এক সদস্য রাতে হাসানকে ডেকে নেন। পরে আগে থেকে ওত পেতে থাকা সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বাধীন ৬ থেকে ৭ জন সশস্ত্র ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।

খবর পেয়ে নয়াপাড়া এপিবিএনের একটি আভিযানিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে টেকনাফ মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

এপিবিএন জানিয়েছে, নিহত হাসান পূর্বে ‘জকির গ্রুপের’ সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তার বিরুদ্ধে তিনটি অস্ত্র মামলা, দুটি ডাকাতি প্রস্তুতি মামলা এবং দুটি অপহরণ মামলা রয়েছে।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।