কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলা মাতারবাড়ী ইউনিয়নের পশ্চিমাঞ্চলে প্রায় ৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। সাগরের তীব্র ঢেউ ও জোয়ারের পানিতে নিয়মিত বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় দ্বীপটির প্রায় ৮০-৯০ হাজার বাসিন্দা চরম নিরাপত্তাহীনতা ও অস্তিত্ব সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাতারবাড়ীর পশ্চিমের সাইটপাড়া, জেলেপাড়া, খন্দারবিল ও রাজঘাট এলাকার অন্তত ৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ইতোমধ্যে সাগর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। জোয়ারের সময় স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ থেকে ৫ ফুট উচ্চতায় পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এতে বসতভিটা, মাছের ঘের ও ফসলি জমি লবণাক্ত পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা ও দুর্যোগ মৌসুমে কোটি কোটি টাকার সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। জিও ব্যাগ দিয়ে সাময়িক মেরামতের চেষ্টা করা হলেও তা বর্ষা মৌসুম কিংবা ঘূর্ণিঝড়ের সময় টিকছে না।

এলাকাবাসী জানান, লবণাক্ত পানির কারণে কৃষিজমি ও মাছের ঘের মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ১৯৯১ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের স্মৃতি এখনো স্থানীয়দের আতঙ্কিত করে তোলে। অরক্ষিত বেড়িবাঁধের কারণে যেকোনো বড় দুর্যোগে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা এসএম রানা জানান, দ্রুত বেড়িবাঁধ সংস্কার করা না গেলে চলতি বর্ষা মৌসুমে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এখানকার মানুষ।
মাতারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সরওয়ার কামাল বলেন, ষাইটপাড়ার অন্তত এক কিলোমিটার অরক্ষিত বেড়িবাঁধের পাশে এক হাজার পরিবার বসবাস করে। জোয়ারের পানিতে এসব পরিবারের বাড়িঘর, ফসলি জমি প্রায় সময় প্লাবিত হয়। এছাড়া বিধ্বস্ত হয় কাঁচা ঘরবাড়ি। দ্রুত সংস্কার না করলে ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় জোয়ারের পানি ঢুকে পড়বে।
এদিকে, মাতারবাড়ী ইউনিয়নের পশ্চিমের নয়াপাড়া-সাইটপাড়া অংশের ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কক্সবাজারের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু রায়হান।
রোববার (১১ মে) দুপুরে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে আবু রায়হান বলেন, আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে জননিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে জিও ব্যাগের মাধ্যমে বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামত করা না হলে বর্ষায় স্থানীয় জনপদ বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড-পাউবোর কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে মাতারবাড়ি বেড়িবাঁধ এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে অনুমোদন পেলে দ্রুতই সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!