বার আউলিয়ার ওরসে লাখো মানুষের ঢল
বার আউলিয়ার ওরস।   ছবি: আরটিএনএন

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুরে ঐতিহ্যবাহী বার আউলিয়ার ওরস শরিফকে ঘিরে লাখো মানুষের সমাগম হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বাংলা সনের বৈশাখ মাসের শেষ দিনব্যাপী এ ওরস অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ধর্মপ্রাণ মানুষ ও ভক্তরা অংশ নেন।

স্থানীয়দের বিশ্বাস, প্রায় ৪০০ বছর আগে পারস্য, ইয়েমেন ও আরবের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত ১২ জন সুফি সাধক ও আউলিয়া ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম হয়ে পায়ে হেঁটে পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে আসেন। পরে তাঁরা মির্জাপুর এলাকায় বসতি স্থাপন করে ইসলাম প্রচার শুরু করেন। তাঁদের মৃত্যুর পর ওই এলাকাতেই সমাহিত করা হয়। পরবর্তীতে সেখানে গড়ে ওঠে বার আউলিয়ার মাজার শরিফ।

ইতিহাসবিদ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পঞ্চগড়ে ইসলাম প্রচারের সূচনা হয়েছিল মূলত এই আউলিয়াদের হাত ধরেই। তাঁদের স্মরণে প্রতিবছর বৈশাখ মাসের শেষ বৃহস্পতিবার এখানে ওরসের আয়োজন করা হয়।

ওরস উপলক্ষে দিনব্যাপী ওয়াজ মাহফিল, কোরআন তিলাওয়াত, মিলাদ ও তবারক বিতরণ করা হয়। বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের মানুষ মাজারে এসে মানত করেন। অনেকে গরু, ছাগল, মুরগি, চাল ও নগদ অর্থ দান করেন।

ওরসকে কেন্দ্র করে বসেছে বড় মেলা। শিশুদের আনন্দের জন্য রয়েছে নাগরদোলা। এছাড়া মাটির খেলনা, ঘুড়ি, লাটিম, বাঁশি, কাঁচের চুড়ি, অলংকার, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন পণ্যের দোকান বসেছে। মেলায় পাওয়া যাচ্ছে মাটির তৈরি হাঁড়ি-পাতিল, পশুপাখির প্রতিকৃতি, বাঁশের তৈরি গৃহস্থালি সামগ্রী এবং নানা ধরনের মুখরোচক খাবার।

বার আউলিয়ার মাজার শরিফ প্রায় ৪৭ একর এলাজুড়ে বিস্তৃত। সেখানে ১২ জন আউলিয়াকে ১১টি স্থানে সমাহিত করা হয়েছে। মাজারের কেন্দ্রস্থলে হযরত হেমায়েত আলী শাহ (র.) ও হযরত নেয়ামত উল্লাহ শাহ (র.)–এর কবর পাশাপাশি অবস্থিত, যা স্থানীয়ভাবে ‘জোড়া কবর’ নামে পরিচিত।

বারো আউলিয়ার নাম হিসেবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত—হযরত হেমায়েত আলী শাহ (র.), হযরত নেয়ামত উল্লাহ শাহ (র.), হযরত করোমত আলী শাহ (র.), হযরত আজহার আলী শাহ (র.), হযরত হাকিম আলী শাহ (র.), হযরত মনসুর আলী শাহ (র.), হযরত মমিনুল শাহ (র.), হযরত শেখ গরীবুল্লাহ (র.), হযরত আমজাদ আলী মোল্লা (র.), হযরত ফরিজ উদ্দীন আখতার (র.), হযরত শাহ মোক্তার আলী (র.) এবং হযরত শাহ অলিউল্লাহ (র.)।

মাজার প্রাঙ্গণে রয়েছে দাখিল মাদ্রাসা, এতিমখানা, ঈদগাহ ময়দান, পুকুর, কবরস্থান, মার্কেট ও বার আউলিয়া উচ্চবিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থাপনা। সব মিলিয়ে ওরসকে ঘিরে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।