শেরপুরে নদীর বাঁধে ভাঙন, প্লাবিত নিম্নাঞ্চল
শেরপুরে নদীর বাঁধে ভাঙন, প্লাবিত নিম্নাঞ্চল।   ছবি: সংগৃহীত

ভারতের মেঘালয় সীমান্তসংলগ্ন শেরপুরের নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতি উপজেলার গারো পাহাড় এলাকায় নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরই মধ্যে নালিতাবাড়ীর চেল্লাখালী নদীর পানি বিপদসীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় নিম্নাঞ্চলের কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সন্ধ্যার পর হঠাৎ পাহাড়ি ঢল নামার খবর পাওয়া গেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উজানে ভারী বৃষ্টিপাত এবং মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের প্রভাবে বুধবার (১৩ মে) সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন নদীর পানি বাড়তে শুরু করে। ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশি নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের কয়েকটি স্থানে ফাটলও দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি একইভাবে চলতে থাকলে বৃহস্পতিবারের মধ্যে বড় ধরনের পাহাড়ি ঢল নামতে পারে।

বর্তমানে নালিতাবাড়ীর ভোগাই ও চেল্লাখালী, ঝিনাইগাতীর মহারশি এবং শ্রীবরদীর সোমেশ্বরী নদীর পানি ক্রমাগত বাড়ছে। এতে নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চেল্লাখালী নদীর বিপদসীমা ২১ দশমিক ৯৪ মিটার হলেও বর্তমানে সেখানে পানি প্রবাহিত হচ্ছে প্রায় ২৩ দশমিক ৫৪ মিটার উচ্চতায়। নাকুগাঁও পয়েন্টে পানি এখনো বিপদসীমার নিচে থাকলেও তা দ্রুত বাড়ছে। একইভাবে নালিতাবাড়ী পয়েন্টেও পানি বিপদসীমার নিচে রয়েছে। অন্যদিকে ঝিনাইগাতীর মহারশি ও শ্রীবরদীর সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপদসীমার সামান্য নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পানিও এখনো স্বাভাবিক রয়েছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত কুমার ধর জানান, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চেল্লাখালী নদীর পানি বিপদসীমার প্রায় ৬০ সেন্টিমিটার ওপরে ছিল। রাতের বৃষ্টি এবং উজানের পানির চাপ অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

এদিকে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, জেলার প্রায় ৬৫ শতাংশ বোরো ধান ইতোমধ্যে কাটা শেষ হয়েছে। এখন পর্যন্ত বন্যার পানি কোনো আবাদি জমিতে প্রবেশ না করলেও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।