থানায় আটক ২ জনকে ‌‌‌‘এলাকার ছেলে’ পরিচয়ে ছাড়িয়ে নিলেন বিএনপি নেতা
থানায় আটক ২ জনকে ‌‌‌‘এলাকার ছেলে’ পরিচয়ে ছাড়িয়ে নিলেন বিএনপি নেতা ।   ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক দুই তরুণকে ‘এলাকার ছেলে’ পরিচয়ে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্লার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে ভাঙ্গা থানায় এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

পুলিশ জানায়, আটক দুজন হলেন ভাঙ্গা পৌরসভার হোগলাডাঙ্গী সদরদী মহল্লার বাসিন্দা ও সাবেক কাউন্সিলর লিয়াকত মোল্লার ছেলে শোয়েব মোল্লা (২৯) এবং কাফুরিয়া সদরদী মহল্লার বাসিন্দা শাহী মুন্সির ছেলে সোহান মুন্সি (২৮)। তাদের বিরুদ্ধে ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড ও টেম্পোস্ট্যান্ড এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার একটি ভিডিও বুধবার (১৩ মে) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ‘বিএনপি করলে চাঁদাবাজি করেও মুক্তি মেলে’ শিরোনামের ১ মিনিট ৩৪ সেকেন্ডের ভিডিওটি ‘শেখ আরাফাত’ নামের একটি আইডি থেকে পোস্ট করা হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, ভাঙ্গা থানার একটি কক্ষে কয়েকজন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছেন। সেখানে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগের কথা উল্লেখ করেন।

একপর্যায়ে ওসি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্লার কাছে জানতে চান, তিনি কেন থানায় এসেছেন। জবাবে আইয়ুব মোল্লা বলেন, ‘ওরা আমাদের এলাকার ছেলে। যদি কোনো ত্রুটিবিচ্যুতি করে থাকে, আমরা সংশোধনের চেষ্টা করব। ভবিষ্যতে এমন কিছু করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে ব্যবস্থা নেবে, আমরা সহযোগিতা করব।’

ভিডিওতে ওসিকে আরও বলতে শোনা যায়, কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার বরদাশত করা হবে না। ভবিষ্যতে এমন অভিযোগ উঠলে দায়দায়িত্ব নিতে হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

পরে থানায় গিয়ে আটক ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে আনার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন বিএনপি নেতা আইয়ুব মোল্লা। তবে তিনি দাবি করেন, চাঁদাবাজির অভিযোগটি ‘কথিত’। তার ভাষ্য, বাস ও টেম্পোস্ট্যান্ডে কাউন্টার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ তাদের ধরিয়ে দেয়।

আইয়ুব মোল্লা বলেন, আমরা রাজনীতি করি। একটি দলে সব ধরনের লোক থাকে। তাই ওসি সাহেবকে বলেছি, আমরা ওদের সংশোধনের চেষ্টা করব। না পারলে আবার আপনাদের হাতে তুলে দেব।

এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে ওসি মিজানুর রহমান মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) মো. রেজওয়ান দীপু বলেন, গোলচত্বর এলাকায় বিভিন্ন যানবাহন থেকে ৩০ থেকে ৫০ টাকা করে চাঁদা তোলার অভিযোগে ওই দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের কোনো অপরাধের অভিযোগ না থাকায় বিএনপি নেতা ও পরিবারের সদস্যদের মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, থানার অভ্যন্তরের ভিডিও কীভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ল, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।