কুড়িগ্রামে রেকর্ড বৃষ্টিপাত, বিপাকে কৃষক
টানা বৃষ্টিতে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা ।   ছবি: আরটিএনএন

কুড়িগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড পরিমাণ অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। ধান কাটা, শুকানো ও সংরক্ষণ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাইড্রোলজি বিভাগ জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা অতি ভারী বৃষ্টিপাত হিসেবে বিবেচিত। অন্যদিকে রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে ১৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৭২ ঘণ্টা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

টানা বৃষ্টির কারণে জেলায় বোরো ধান কাটার মৌসুমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। ইতিমধ্যে কিছু ধান কাটা হলেও এখনো প্রায় ৫০ শতাংশ জমির ধান মাঠে রয়ে গেছে। এসব ধান পরিপক্ব অবস্থায় থাকলেও পানিতে ডুবে যাওয়ায় তা কাটা ও সংরক্ষণ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। পাশাপাশি কাটা ধান শুকানো এবং খড় সংরক্ষণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

রাজারহাট উপজেলার সিনাই ইউনিয়নের কৃষক জলিল উদ্দিন বলেন, কয়েকদিন ধরে ধান কাটার কাজ চলছিল। হঠাৎ টানা বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে গেছে। অনেক ধান পানির নিচে চলে গেছে। এখন ধান কাটাও সম্ভব হচ্ছে না, আবার কাটলেও শুকানোর জায়গা নেই।

উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের কৃষক আলাল হোসেন বলেন, ধান প্রায় পেকে গেছে। কিন্তু বৃষ্টির কারণে জমিতে হাঁটু সমান পানি। শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না। এভাবে বৃষ্টি চলতে থাকলে বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ১৭ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক জমির ধান ইতিমধ্যে কাটা হয়েছে। তবে বাকি অংশের ধান মাঠে থাকায় নতুন করে বৃষ্টিপাতে ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। অনেক জমিতে ধানগাছের গলা পর্যন্ত পানি উঠে গেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, রাত থেকে ভারী বৃষ্টিতে ধানের জমিতে পানি জমে গেছে। গত তিন দিনে কিছু ধান কাটা গেলেও এখনো প্রায় অর্ধেক জমির ধান বাকি রয়েছে। পানি নেমে গেলে কৃষকেরা আবার ধান কাটতে পারবেন। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।

তিনি আরও বলেন, প্রায় সব জমির ধান পেকে গেছে। পানি নেমে গেলে সেসব কাটা যাবে। তবে পানিতে নিমজ্জিত কিছু জমির পাট ও সবজি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। বৃষ্টি থেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা যাবে। অনেক কৃষকের আধা শুকনো খড় আবার ভিজে গেছে। খড় পচে গেলে প্রাণিখাদ্যের সংকট দেখা দিতে পারে।

রাজারহাট আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, এই অঞ্চলে গত পাঁচ বছরের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টা ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।