কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে নির্মাণাধীন ড্রেনে পড়ে ইফাত (৬) নামে এক মাদরাসা শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে নির্মাণাধীন ড্রেনে পড়ে ইফাত (৬) নামে এক মাদরাসা শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।   ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে নির্মাণাধীন ড্রেনে পড়ে ইফাত (৬) নামে এক মাদরাসা শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সোমবার (১১ মে) বিকেলে কুমারখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের এলংগী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ইফাত ওই এলাকার লুঙ্গি ব্যবসায়ী কামরুল হাসানের ছোট ছেলে এবং স্থানীয় বায়তুল উলুম ইসলামিয়া ক্যাডেট মাদরাসার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

সন্তান হারিয়ে মা শারমিন আক্তার শোকে পাগলপ্রায় হয়ে পড়েছেন। প্রিয় সন্তানের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন বাবা, বর্তমানে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্বজনদের অভিযোগ, ড্রেন নির্মাণে খনন করা হলেও এক বছরেও কাজ শেষ হয়নি। খনন করা অংশে পানি জমে সেটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। ঠিকাদার ও কর্তৃপক্ষের অবহেলায়ই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি তাদের।

সোমবার বিকেল ৩টার দিকে শিশু ইফাত ও তার চাচাতো ভাই সামাদ (১১) ছাগল চড়াতে বাড়ি থেকে বের হয়। ঘণ্টাখানেক পর সামাদ বাড়ি ফিরে এলেও ইফাত ফিরে না আসায় স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা মানিক শেখের বাড়ির সামনে নির্মাণাধীন ড্রেনে ইফাতের স্যান্ডেল দেখতে পান। পরে ড্রেন থেকে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ইফাতের চাচা সামছুল আলম অভিযোগ করে বলেন, “এক বছর আগে ড্রেনের জন্য খাল কাটা হয়েছে। কিন্তু এখনো কাজ শেষ হয়নি। সেখানে পানি জমে রয়েছে। পানিতে পড়ে আমার ভাতিজার মৃত্যু হয়েছে। এর জন্য ঠিকাদার দায়ী। আমরা এর বিচার চাই।”

কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক ফারজানা আখতার বলেন, “ঘটনাটি শুনেছি। আমি ঠিকাদারকে আগামীকাল অফিসে আসতে বলেছি। আমি নিজেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সেখানে ঠিকাদারের অবহেলা পাওয়া গেছে। এভাবে চলতে পারে না।”

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, “নির্মাণাধীন ড্রেনের জমে থাকা পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পুলিশ, স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুমারখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যাংক কর্মকর্তা মানিক শেখের বাড়ি থেকে গড়াই নদী পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার ড্রেন নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয় পৌর কর্তৃপক্ষ। গত বর্ষা মৌসুমে ড্রেন নির্মাণের উদ্দেশ্যে এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কেটে সরু খাল সৃষ্টি করা হয়। তবে এক বছরেও কাজ শেষ না হওয়ায় ওই এলাকায় বিপজ্জনক গর্ত তৈরি হয়।