পুলিশের ওপর হামলা করে আসামি ছিনতাই: মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৭, পুলিশের উপর হামলা, র‌্যাব, পুলিশ, আসামি ছিনতাই, র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার,
পুলিশের ওপর হামলা করে আসামি ছিনতাই: মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৭।   ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হত্যা মামলার এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী ও মামলার প্রধান আসামিসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

শনিবার (৯ মে) বিকেলে র‌্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক আ ম ফারুক তথ্যটি নিশ্চিত করেন।

এর আগে শুক্রবার (৮ মে) গভীর রাত পর্যন্ত কক্সবাজারের সুগন্ধা ও হোটেল-মোটেল জোন এলাকায় অভিযান চালিয়ে র‌্যাব-১৫, কক্সবাজার এবং র‌্যাব-১, ঢাকার যৌথ দল তাদের আটক করে।

গত ৫ মে রাতে রূপগঞ্জ থানার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের চালপাড়া এলাকায় হত্যা মামলার আসামি শাহীন মিয়াকে গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় শীর্ষ সন্ত্রাসী শামীম ও করিমের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত একদল দুর্বৃত্ত পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

হামলাকারীরা পুলিশের গাড়ি ও সরকারি মালামাল ভাঙচুর করে এবং পুলিশের হেফাজত থেকে আসামিকে ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন। পরে রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

র‌্যাব জানায়, ঘটনার পর অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে কক্সবাজারে গিয়ে পর্যটক পরিচয়ে আত্মগোপন করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব জানতে পারে, পলাতকরা কক্সবাজারের কলাতলী ও সুগন্ধা এলাকার বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করছে। এরপর যৌথ বাহিনী সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন শামীম মিয়া (৪০), আব্দুল করিম (৩৫), মো. রুবেল (৩২), মো. মামুন (৩৮), মো. খালেদ (৪৪), মো. আবুল (৪২) ও মো. মানিক হোসেন (৪০)। তারা সবাই নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার দাপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকার বাসিন্দা।

র‌্যাব আরও জানায়, শামীম মিয়া একজন তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও পুলিশের ওপর হামলাসহ অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে। এছাড়া আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে হত্যা ও মাদকসহ পাঁচটি মামলা এবং রুবেলের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নিতে কক্সবাজার সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।