ঘুষের দর-কষাকষির অডিও ভাইরাল, থানার ওসি বদলি
এসআই প্রত্যাহারের পর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিক হোসেনকে বদলি।   ছবি: আরটিএনএন

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় চোরাই ভারতীয় প্রসাধনী পণ্য ছাড়িয়ে দিতে ঘুষের দর-কষাকষির অভিযোগে ভাইরাল হওয়া অডিওকে কেন্দ্র করে থানায় প্রশাসনিক রদবদল করা হয়েছে। ঘটনার জেরে এক উপপরিদর্শককে (এসআই) প্রত্যাহারের পর এবার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিক হোসেনকে বদলি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজল কুমার সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, কলমাকান্দা থানা থেকে ওসি সিদ্দিক হোসেনকে কেন্দুয়ার পেমই পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে বদলি করা হয়েছে।

এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় একই ঘটনায় কলমাকান্দা থানার এসআই আবু হানিফাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। পাশাপাশি অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে জেলা পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রাঙ্গামাটিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি পিকআপভ্যান থেকে ১৮ বস্তা ভারতীয় প্রসাধনী পণ্য জব্দ করা হয়।

এ সময় পিকআপচালক নাসিম ও তার সহকারী মনির হোসেনকে আটক করা হয়। পরে এ ঘটনায় জসিম উদ্দিনসহ পাঁচজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করে পুলিশ।

ঘটনার পর বুধবার বিকেল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে কলমাকান্দা থানার এসআই আবু হানিফা ও কথিত চোরাকারবারি জসিম উদ্দিনের মধ্যে টাকার বিনিময়ে মালামাল ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে কথোপকথন রয়েছে বলে দাবি করা হয়। অডিও প্রকাশের পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

ভাইরাল অডিওতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, “স্যার, আপনাকে ৮০ হাজার টাকা দেব। আমাকে মামলায় দেবেন না, শুধু দুই বস্তা মাল আটক দেখাবেন।” জবাবে অপর ব্যক্তি বলেন, “না ভাই, এর কম হবে না, তিন লাখ টাকা দেন।” পরে দর-কষাকষির একপর্যায়ে আড়াই লাখ ও দুই লাখ টাকার কথাও শোনা যায়।

কথোপকথনের একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি আরও বলেন, “ওসি স্যার কিন্তু বিপক্ষে যাবে না। ওসি স্যার বলছেন, যেহেতু আমাকে জানিয়ে আপনারা করেছেন, দারোগার সঙ্গে কথা বলেন।”

তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে এসআই আবু হানিফা কথা বলতে রাজি হননি। অন্যদিকে কথোপকথনের অপর ব্যক্তি জসিম উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে বদলি হওয়া ওসি মো. সিদ্দিক হোসেন বলেন, “চোরাকারবারিদের সঙ্গে আমার কোনো ধরনের কথা হয়নি। এসব ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই।”

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজল কুমার সরকার বলেন, অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি কাজ করছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।