চুয়াডাঙ্গার  জয়রামপুর গ্রামে আক্তার হোসেন  নামের এক ব্যক্তিকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনা ঘটেছে।
চুয়াডাঙ্গার জয়রামপুর গ্রামে আক্তার হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনা ঘটেছে।   ছবি: আরটিএনএন

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর গ্রামে আক্তার হোসেন (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের শাহাপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। আহত আক্তার হোসেন একই গ্রামের শাহাপাড়ার মৃত সবুর আলীর ছেলে।

আক্তার হোসেন অভিযোগ করে জানান, তার দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং তাদের মধ্যে বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলছিল। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একটি ভ্যানে অবস্থান করছিলেন। তিনি দাবি করেন, এ সময় ৬ থেকে ৭ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি মুখ ঢেকে মোটরসাইকেলে এসে তাকে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে জখম করে।

তিনি আরও জানান, ঘটনার আগে তিনি নাম খারিজ সংক্রান্ত কাজে দামুড়হুদায় গিয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে এক লাখ ৫৫ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। পরে দামুড়হুদা বাসস্ট্যান্ডে এসে তার স্ত্রীকে দেখতে পান এবং কামরুল নামের এক ব্যক্তির মোটরসাইকেলে করে বাড়ির দিকে রওনা দেন। বাড়ির সামনে এক আত্মীয়ের দোকানে বসা অবস্থায় তার স্ত্রী ভ্যানে করে এসে তাকে দেখিয়ে দেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। এরপরই কয়েকটি মোটরসাইকেলে আসা ৬ থেকে ৭ জন ব্যক্তি তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়।

আক্তার হোসেনের দাবি, হামলাকারীরা তার কাছ থেকে ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোনও নিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, হামলাকারীদের মুখ ঢাকা থাকায় কাউকে শনাক্ত করা যায়নি, তবে তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে জড়িত থাকার সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মোর্শেদ আলম জানান, আহত ব্যক্তির বুকে, পিঠে, ডান হাত ও পায়ে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাত রয়েছে, যার মধ্যে দুটি গভীর ক্ষত। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মেসবাহ উদ্দিনের সরকারি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।