ছোট ফেনী নদীর ভাঙনে বিস্তৃর্ণ জনপদ বিলীন, এলাকাবাসীর মানববন্ধন,
ছোট ফেনী নদীর ভাঙনে বিস্তৃর্ণ জনপদ বিলীন, এলাকাবাসীর মানববন্ধন।   ছবি: আরটিএনএন

ছোট ফেনী নদীর অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হচ্ছে সোনাগাজী উপজেলার চারটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মানুষের শতশত ঘরবাড়ি, ফসলি জমিসহ বিস্তৃর্ণ জনপদ। তিলতিল করে গড়ে তোলা মাথা গোঁজার ঠাই হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে এবং দ্রুত ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে এলাকাবাসী। 

সোমবার (৪ মে) দুপুরে ছোট ফেনী নদীর সাহেবের ঘাট সেতু সংলগ্ন মানববন্ধন করে নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকাবাসী।

এলাকায় স্থানীয়দের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনে উপজেলার চরচান্দিয়া ও চরদরবেশ ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী বিভিন্ন গ্রামের শত শত নারী, পুরুষ ও শিশুরা অংশগ্রহণ করেন।

কয়েকশ মিটার এলাকাজুড়ে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তারা তাদের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরেন। ব্যানারগুলোতে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিসহ নানা শ্লোগান লেখা ছিল। মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্থানীয় সাবেক জনপ্রতিনিধি ও ভুক্তভোগীরা বলেন, নদীভাঙনের কারণে চর দরবেশ ও চর চান্দিয়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি এলাকার শত শত একর ফসলি জমি, ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আরও অনেক জমি ও ঘর বাড়ি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা। 

তারা দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ অন্তত ৪০০ মিটার এলাকায় জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ এবং ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীর বাঁকা অংশ সোজা করার দাবি জানান। তা না হলে পুরো চর চান্দিয়া ইউনিয়ন ও চর দরবেশ ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকা মানচিত্র থেকে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। 

ইতালি মাকের্ট এলাকার বাসিন্দা সাহেদা খাতুন বলেন, ‘আমার স্বামী নেই। একটি মেয়ে নিয়ে এই ভিটাতেই কোনোমতে দিন কাটাচ্ছি। যদি এই বাড়িটাও নদীতে চলে যায়, তাহলে কোথায় যাব, কোথায় থাকব? মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও নদীতে হারিয়ে যেতে বসেছে। ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক ও চর চান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সামছুদ্দিন খোকন, চর দরবেশ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, বিএনপি নেতা সেলিম রেজা, যুবদল নেতা রায়হান সাব্বির, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবুল কালামসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

২০২৪ সালে আগষ্টের ভয়াবহ বন্যায় নোয়াখালীর মুছাপুর রেগুলেট নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার পর থেকে ছোট ফেনী নদীর কোম্পানীগঞ্জ ও সোনাগাজীর অংশে দুই তীরে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। 

ইতিমধ্যে ভাঙনে ফসলি জমি, ফলের বাগান, রাস্তা-ঘাট ও কয়েকশ বসতভিটাও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদীভাঙনের কারণে হুমকিতে রয়েছে আরও চারটি আশ্রয়কেন্দ্র ও আশপাশের হাজারো পরিবার। নদীভাঙন ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিস্তৃর্ণ জনপদসহ আরও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন গ্রামবাসী। নোয়াখালী ও ফেনীর সীমান্তবর্তী মুছাপুর এলাকায় রেগুলেটর না থাকায় সমুদ্রের জোয়ারের পানি নির্বিঘ্নে প্রবেশ করায় ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চর চান্দিয়া, চর দরবেশ, বগাদানা ও চর মজলিশপুর ইউনিয়নের ছোট ফেনী নদীর তীরবর্তী এলাকায় ব্যাপক ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। 

নদী ভাঙনের কারনে বেশ কয়েকটি রাস্তা ও ছোট ছোট কালভার্ট ও সেতুও ভেঙে নদীতে চলে গেছে। বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিম চর দরবেশ, কাজীরহাট সুইসগেট, আশ্রয়কেন্দ্র, আউরারখিল, দাসপাড়া, কাটাখিলা, কুঠিরহাট ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা এতই বেশি যে রাতে-দিনে সমান তালে বাড়িঘর ও ফসলি জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙনরোধে প্রশাসন এখনো কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এখন ভাঙন গ্রামগুলোর ঘনবসতির দিকে এগুচ্ছে।