ফরিদপুরে দাদি-ফুপুসহ ৩ জনকে কুপিয়ে হত্যা
ঘটনাস্থলে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার সদস্যরা এসে মরদেহ উদ্ধার করেন।   ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুর সদরে দাদি, ফুপু ও এক প্রতিবেশীকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন। সোমবার রাত ১০টার দিকে সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গদাধরডাঙ্গী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন, আমেনা বেগম (৭৫), তাঁর মেয়ে সালেহা বেগম (৫৫) এবং প্রতিবেশী কাবুল চৌধুরী (৪৯)। আহত রিয়াজুল ইসলাম (৩৮) ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একই এলাকার হারুন মোল্লার ছেলে আকাশ মোল্লা (৪০) পারিবারিক বিরোধের জেরে কোদাল দিয়ে হামলা চালান। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর দাদি আমেনা বেগম ও ফুপু সালেহা বেগম নিহত হন। এ সময় হামলা ঠেকাতে গেলে প্রতিবেশী কাবুল চৌধুরীকেও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

আলিয়াবাদ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. রাজ্জাক শেখ বলেন, রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় বাধা দিতে গিয়ে আরও একজন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, আকাশ মোল্লা মানসিকভাবে অস্থির প্রকৃতির ছিলেন। কখনো স্বাভাবিক আচরণ করলেও মাঝেমধ্যে অসংলগ্ন আচরণ করতেন।

আকাশ একসময় ফরিদপুর যক্ষ্মা হাসপাতালে পিয়ন পদে কর্মরত ছিলেন উল্লেখ করে স্থানীয় ইউপি সদস্য রাজ্জাক শেখ বলেন, ‘আকাশ মানসিকভাবে অস্থির প্রকৃতির ছেলে ছিলেন। এ জন্য তাঁকে বিয়েও দেওয়া হয়নি। তাঁর এক আত্মীয় তাঁকে স্বাস্থ্য বিভাগের চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়ে দিয়েছিলেন। যখন তাঁর মাথা নষ্ট হতো, সে অফিসেও যেত না। আবার যখন ভালো থাকত, সুস্থ–স্বাভাবিক মানুষের মতোই আচরণ করত।’

এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। অভিযুক্ত আকাশ মোল্লা পলাতক রয়েছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামছুল আজম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।