বরাবরই সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চল পদ্মার পশ্চিম পাড়। বিদ্যুতের লোডশেডিং এ অঞ্চলের জেলাগুলোর জন্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। এবার জ্বালানী সংকটের কারণে ভয়াবহতার মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে লোডশেডিং। পদ্মার ওই পাড়ের বাসিন্দাদের জন্য বিদ্যুৎ এখন যেন এক অনিশ্চিত সেবার নাম।
মাদারীপুরের পদ্মাপাড় সংলগ্ন এলাকাবাসীর অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে ৪ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ থাকে না সেখানে। দিনের প্রায় ২০ ঘন্টা কাটাতে হয় বিদ্যুৎহীন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দিনে-রাতে মিলিয়ে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা। গ্রীষ্মের এ গরমের সময় ফ্যান ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করতে না পারায় শিশু ও বয়স্কদের কষ্ট আরও বেড়েছে। অনেকেই জানান, রাতের অধিকাংশ সময়ই বিদ্যুৎ থাকে না, ফলে ঘুমেরও মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে।
এলাকার কৃষক মোসাদ্দেক শিকদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দিনভর মাঠে কাজ করি এই গরমে। শরীর একেবারে ক্লান্ত হয়ে যায়। কিন্তু রাতে বাসায় ফিরে একটু শান্তিতে ঘুমাবো সেই সুযোগটাও নেই। বিদ্যুৎ থাকেই না। এভাবে আর কতদিন চলবে? আমাদের জীবনের কি মূল্য এতই কম?”
সেই সঙ্গে চাষাবাদে সেচ কাজের ব্যাঘাত তো রয়েছেই। শুধু কৃষকই নন, শিক্ষার্থীরাও পড়াশোনায় ব্যাঘাতের শিকার হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় যথাযথভাবে লেখাপড়া করতে না পারায় তারা পিছিয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন অভিভাবক।
স্থানীয় বাসিন্দা পারভীন বেগম বলেন, “এটা তো শহর না যে কোচিং করিয়ে সামাল দেবো। আমাদের সন্তানদের জন্য একমাত্র ভরসা স্কুল। কিন্তু এই গরমে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে, রাতে ঘুমাতে পারে না। বিদ্যুতের জন্য অনেক সময় স্কুলেও যেতে চায় না। সরকার যেন বিষয়টা একটু দেখে।”
ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন ব্যবসায়ীরাও। বিদ্যুৎ না থাকায় দোকান ও ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঠিকমতো চালানো যাচ্ছে না। ফলে আয় কমে গেছে বলে জানান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
অতিরিক্ত গরম ও ঘুমের অভাবে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে ডিহাইড্রেশন, মাথাব্যথা ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এতে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।
যেখানে সংকটে ২-৩ ঘণ্টা লোডশেডিং হবার কথা এবং স্বাভাবিকভাবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ থাকার কথা, সেখানে দিনে মাত্র ৩-৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে পদ্মার পশ্চিম পাড়ের মানুষের। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। এই সংকট মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে বলেও শঙ্কা তাদের।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!