বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ, ভোগান্তিতে উত্তরাঞ্চল, কয়লা, লোড শেডিং, কারেন্ট নেই,
বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র।   ছবি: সংগৃহীত

কয়লার অভাব নেই, তবু থমকে গেছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এখন পুরোপুরি বন্ধ। হঠাৎ এই বিপর্যয়ে অন্ধকার আর গরমে নাকাল হয়ে পড়েছেন উত্তরাঞ্চলের মানুষ।বুধবার রাত ১০টা ১০ মিনিটে কেন্দ্রটির ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিটে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। জানা গেছে, কয়লার সঙ্গে পাথর মিশে যাওয়ায় বয়লারের পাইপ ফেটে যায়, আর তাতেই বন্ধ হয়ে যায় শেষ চালু ইউনিটটিও। ফলে তিনটি ইউনিটই এখন অচল।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক।

তিনি বলেন, কয়লার সঙ্গে পাথর আসায় ১ নম্বর ইউনিটের বয়লার পাইপ ফেটে ও কুলিং ফ্যান ভেঙ্গে গেছে। এতে বুধবার রাত ১০টা ১০ মিনিটে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন। মেরামত কাজ চলছে। মেরামত করে আবার উৎপাদন শুরু করতে ৪ থেকে ৫ দিন সময় লাগতে পারে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতে সময় লাগবে অন্তত ৪ থেকে ৫ দিন। তবে এর আগেই কেন্দ্রটির বাকি দুই ইউনিট দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিল, ফলে নতুন করে এই বিপর্যয় পুরো উৎপাদন ব্যবস্থাকেই থামিয়ে দিয়েছে।

এই অবস্থায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনাজপুরসহ উত্তরের আট জেলার মানুষ। তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট তাদের দৈনন্দিন জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। অনেক জায়গায় দিনে-রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম অস্বস্তি।

অন্যদিকে, বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি কর্তৃপক্ষও। প্রতিদিন হাজার হাজার টন কয়লা উত্তোলন হলেও তা ব্যবহারের সুযোগ নেই। ফলে খনির ইয়ার্ডে জমে উঠেছে বিশাল মজুত, যা এখন ধারণক্ষমতার অনেক বেশি। নতুন করে কয়লা রাখার জায়গা নিয়েও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।

সব মিলিয়ে, একদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ, অন্যদিকে বাড়তি গরম। দুটোর চাপ একসঙ্গে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে পুরো উত্তরাঞ্চল। এখন সবার চোখ মেরামত কাজ দ্রুত শেষ হয়ে কবে আবার আলো জ্বলবে, সেই অপেক্ষায়।