ফেরিতে ছদ্মবেশে নৌ পুলিশের অভিযান, জুয়াড়ি চক্র আটক,
আটককৃত অভিযুক্তরা।   ছবি: সংগৃহীত

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে চলাচলকারী ফেরিতে ছদ্মবেশে অভিযান চালিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণায় জড়িত জুয়াড়ি চক্রের চার সদস্যকে আটক করেছে নৌ পুলিশ।

নৌ পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাট থেকে পাটুরিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া শাহপরান ফেরিতে ‘তিন তাস’ খেলার প্রলোভন দেখিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র।

বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে ফরিদপুর অঞ্চলের নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল-মামুনের নির্দেশনায় পাটুরিয়া নৌ থানা ও দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির যৌথ দল ছদ্মবেশে ফেরিতে অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে পাটুরিয়া নৌ থানার ইনচার্জ (ওসি) পুলিশ পরিদর্শক কেএম নজরুল ইসলাম (পিপিএম) এবং দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক ত্রিনাথ সাহার নেতৃত্বে এসআই গোলাম সরোয়ার, এসআই ইয়াকুব হোসেনসহ সঙ্গীয় ফোর্স অংশ নেন।

এ সময় জুয়া খেলার সরঞ্জামসহ চারজন পেশাদার জুয়াড়িকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তাদের আরও দুই সহযোগী যাত্রীদের ভিড়ে মিশে পালিয়ে যায়।

আটকরা হলেন—মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় থানার তেঘুরী এলাকার মো. আকাশ (২৩) ও মো. রাসেল মুন্সি (৩৩), এবং রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বাহিরচর দৌলতদিয়া এলাকার জহির ওরফে জহু ফকির (৪২) ও মো. বাবু ফকির (৩৫)।

পরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা জানান, আটকদের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে মো. আকাশের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতির প্রস্তুতি ও জুয়া আইনে চারটি মামলা বিচারাধীন। রাসেল মুন্সির বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে তিনটি মামলা রয়েছে। জহির ওরফে জহু ফকিরের বিরুদ্ধে অস্ত্র, চুরি, ডাকাতির প্রস্তুতি ও জুয়া আইনে মোট ১০টি মামলা বিচারাধীন এবং বাবু ফকিরের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি সংক্রান্ত দুটি মামলা রয়েছে।

এ ঘটনায় আটকদের বিরুদ্ধে নৌ পুলিশ বাদী হয়ে শিবালয় থানায় জুয়া আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করেছে। তাদেরকে মানিকগঞ্জ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।