‘মেয়েকে ওরা মেরে ফেলল, এখন মামলাও নিচ্ছে না পুলিশ’
কিশোরী রাধা রাণী।   ছবি: সংগৃহীত

যৌতুকের বাকি ৫০ হাজার টাকার জন্য প্রাণ গেল ১৭ বছরের কিশোরী রাধা রাণীর—এমন অভিযোগ তার পরিবারের। ঘটনাটি ঘটেছে পীরগঞ্জ উপজেলা-র রাঘবপুর গ্রামে।

মেয়ের সুখের আশায় বসতভিটার শেষ সাড়ে সাত শতক জমি বিক্রি করেছিলেন বাবা মহেন্দ্র নাথ রায়। তিন লাখ টাকার যৌতুকের মধ্যে আড়াই লাখ টাকা বিয়ের দিনই পরিশোধ করেন তিনি। বাকি ৫০ হাজার টাকা পরে দেওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু সেই টাকার জন্যই প্রাণ হারাতে হলো রাধাকে। তার গর্ভে থাকা চার মাসের সন্তানও বাঁচেনি।

গত বছরের আগস্টে একই উপজেলার রাঘবপুর গ্রামের শ্রমিক মিঠুন চন্দ্র রায়ের সঙ্গে রাধার বিয়ে হয়। তখন সে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী, বয়স ছিল প্রায় ১৬ বছর।

পরিবারের দাবি, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের টাকার জন্য তার ওপর শুরু হয় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। প্রায়ই মারধর করা হতো, এমনকি না খাইয়েও রাখা হতো।

মৃত্যুর দুই দিন আগে স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়িতে এসে বাকি টাকার কথা বলেন রাধা। তখন অসহায় বাবা কিছু সময় চাইলেও তা আর মেলেনি।

“বসতভিটা বিক্রি করে বিয়ে দিয়েছি, এখন আমার জমিও নেই, মেয়েটাও রইল না”—কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন তিনি।

গত ১৩ এপ্রিল সকালে স্বামীর বাড়ি থেকে রাধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শ্বশুরবাড়ির দাবি, সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

তবে পরিবারের অভিযোগ, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তাদের দাবি, গর্ভবতী অবস্থায় নির্যাতনের পর তাকে হত্যা করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, ময়নাতদন্তের পর তাদের না জানিয়েই দ্রুত লাশ সৎকার করে ফেলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এতে শেষবারের মতো মেয়ের মুখ দেখার সুযোগও পাননি তারা।

রাধার বাড়ি জয়পুর গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ছোটবেলায় মা হারানো শান্ত স্বভাবের এই মেয়ের এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না এলাকাবাসী। তাদেরও সন্দেহ—এটি আত্মহত্যা নয়, হত্যা।

মেয়ের মৃত্যুর বিচার চেয়ে বাবা থানায় গেলে অভিযোগ, পীরগঞ্জ থানা পুলিশ মামলা নেয়নি।

দিশেহারা বাবা বলেন, “যৌতুকের জন্য মেয়েকে ওরা মেরে ফেলল, এখন মামলাও নিচ্ছে না পুলিশ। আমি বিচার চাইব কোথায়?”

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন জানান, ঘটনাটি তদন্তাধীন। পরিবার মামলা করতে চাইলে পুলিশ তা গ্রহণ করবে, এতে কোনো বাধা নেই।