নাটোরে জাতীয় পাওয়ার গ্রিডে ডাকাতি মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ১৩ 
ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্যদের গ্রেপ্তার।   ছবি: আরটিএনএন

নাটোরের বড়াইগ্রামে নির্মাণাধীন জাতীয় পাওয়ার গ্রিডে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ডাকাতি মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ। এ ঘটনায় সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্যদের গ্রেপ্তারসহ বিপুল পরিমাণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। 

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার এম এ ওহাব এসব তথ্য জানান।

পুলিশ সুপার বলেন, গত ২৫ মার্চ ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে ২৬ মার্চ রাত আড়াইটার মধ্যে বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া এলাকার ১৩২/১৩৩ কেভি গ্রিড কেন্দ্রে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ডাকাত দল ধারালো অস্ত্র, চাপাতি ও লোহার রড কাটার মেশিন ব্যবহার করে প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ ৬০ হাজার ২৯৯ টাকা ২৫ পয়সা মূল্যের মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

ঘটনার পরপরই নাটোর জেলা পুলিশ ও ডিবির একটি চৌকস টিম তথ্য প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান শুরু করে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় নাটোর, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ঢাকা ও গাজীপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। বিশেষ করে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানার গভীর বনাঞ্চল থেকে ডাকাত দলের সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন, মোহাম্মদ রোকন মোল্লা (৩২), রুহুল আমিন (৩৮), তসলিম প্রামানিক (৪৮), আব্দুস সালাম (৩৫), শিহাব উদ্দিন (২৬), হযরত আলী ওরফে মন্টু মোল্লা (৪৬), বাসেত মন্ডল (৩৭), সৈকত (২৫), উজ্জ্বল মোড়ল (৫০), জাহাঙ্গীর আলম (৩৯),হারুনুর রশিদ (৪০), নায়েব আলী (৪৫), সাইফুল ইসলাম (৪২)সহ মোট ১৩ জন।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় মূলত দুটি ডাকাত দল অংশ নেয়। একটি দলের নেতৃত্বে ছিলেন রুহুল আমিন এবং অপর দলের নেতৃত্বে সৈকত। তারা কাশিমপুর জেলা কারাগারে থাকা অবস্থায় পরস্পরের সঙ্গে পরিচিত হয়ে এই ডাকাতির পরিকল্পনা করে।

এ পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া আলামতের মধ্যে রয়েছে ১৫০ অ্যাম্পিয়ার আওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন ১.২ ভোল্টের ৩৫০টি ব্যাটারি সেল, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ১৩ লাখ ১৮ হাজার টাকা। এছাড়া ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ড ১২-৬৯৬৬) ও ১০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।