চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে জ্বালানি তেলের পাম্পগুলোতে চরম অব্যবস্থাপনা ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে জ্বালানি তেলের পাম্পগুলোতে চরম অব্যবস্থাপনা ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে।   ছবি: আরটিএনএন

চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে জ্বালানি তেলের পাম্পগুলোতে চরম অব্যবস্থাপনা ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। তদারকির দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসারদের অনুপস্থিতি এবং ফুয়েল কার্ডের নিয়ম উপেক্ষা করে তেল বিক্রির ফলে সাধারণ মোটরসাইকেল চালক ও কৃষকদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শৃঙ্খলা ফেরানোর আশ্বাস দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে এর প্রতিফলন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

শুক্রবার সরেজমিনে চুয়াডাঙ্গা সদর ও আলমডাঙ্গার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, সকালের দিকে তেল সরবরাহ শুরু হলেও বেলা ১১টার পর অধিকাংশ পাম্পে ট্যাগ অফিসারদের পাওয়া যায় না। চুয়াডাঙ্গা সদরের মেসার্স চুয়াডাঙ্গা ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে নির্ধারিত ট্যাগ অফিসার এস এম আবুল ফজল অনুপস্থিত। এই সুযোগে পাম্প কর্তৃপক্ষ ফুয়েল কার্ডের নিয়ম তোয়াক্কা না করেই অবাধে তেল বিক্রি করছে। একই চিত্র দেখা গেছে সুগন্ধা ফিলিং স্টেশনেও। সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসারের মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

বিভিন্ন পাম্পে দেখা গেছে, কড়াকড়ি থাকার পরও প্লাস্টিকের বোতলে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া সিরিয়াল ভঙ্গ করে তেল নেওয়া, প্রকৃত কৃষক না হয়েও অন্যের কৃষি কার্ড ব্যবহার করে তেল সংগ্রহের মতো অনিয়ম এখন নিত্যদিনের চিত্র। পাম্পগুলোতে তদারকির জন্য মোতায়েন করা পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের সামনেই অনেক ক্ষেত্রে সিরিয়াল ভঙ্গের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

আলমডাঙ্গার মেসার্স হক ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বরত ট্যাগ অফিসাররা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি তাদের নির্দেশনা উপেক্ষা করে জোরপূর্বক আগে তেল নেয়ার চেষ্টা করছেন। বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কার্যকর ভূমিকা পালন করছেন না বলেও তারা দাবি করেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি তেলের সংকট নিরসন ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। পুলিশ প্রশাসনও শৃঙ্খলা রক্ষায় তৎপর থাকার দাবি করেছে। তবে পাম্পগুলোর বর্তমান চিত্র বলছে, মাঠপর্যায়ে কঠোর মনিটরিং নিশ্চিত করা না গেলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।