পাংশায় পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ
রাজবাড়ীর পাংশা পৌর বিএনপির নেতা ইটভাটার ম্যানেজারকে মারপিট ও ভাঙচুর।   ছবি: আরটিএনএন

রাজবাড়ীর পাংশা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. রইচ খান (৪২)সহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ইটভাটার ম্যানেজারকে মারপিট ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইটভাটার মালিক মো. ইদ্রিস আলী মণ্ডল পাংশা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

মো. রইচ খান ছাড়াও বাকি অভিযুক্তরা হলেন মো. নাসির খান (৩৯), মো. আরিফ মোল্লা (৩৫), মো. রাশিদুল (৩৩), মো. মামুন (৪২) ও মো. রাজা (৪৫)।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মো. রইচ খান অভিযুক্তদের সঙ্গে নিয়ে পাংশা উপজেলার যশাই ইউনিয়নের পারভেল্লা বাড়িয়া এলাকায় মণ্ডল ব্রিকসে গিয়ে ম্যানেজার ও ইঞ্জিন মিস্ত্রিকে ভাটা বন্ধ করতে হুমকি দেন। 

পরে বিষয়টি ভাটার ম্যানেজার মালিককে জানালে পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে যায়। এই ঘটনার জের ধরে সকালে আবার রইচ খান অভিযুক্তদের নিয়ে ভাটায় গিয়ে ম্যানেজারকে মারপিট করেন। এ সময় ম্যানেজারের কাছে থাকা ইট বিক্রির আড়াই লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

ভাটার ইঞ্জিন শ্রমিক মো. মমিন বলেন, ‘আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। ইট পোড়ানোর শ্রমিকরা আমাকে ডেকে বলে কয়েকজন লোক ভাটা বন্ধ করতে বলছে। আমি গিয়ে দেখি রইচ খানসহ কয়েকজন লোক। রইচ খান তার কোমরে অস্ত্র দেখিয়ে বলে, ভাটা বন্ধ করে চলে যাবি। আমি তাকে বলি, আপনি মালিককে বলেন। তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, আমি রইচ খান—যা বলি তাই করি, বাঁচতে চাইলে এলাকা ছাড়া।’

ইটভাটার ম্যানেজার জয়দেব বলেন, ‘রাতে রইচ খান আমাকে হুমকি দিয়ে বলে যায়, কাল থেকে আর এই ভাটার ইট বিক্রি করতে পারবি না। এখনই ইট পোড়ানো বন্ধ করতে হবে। তারা চলে গেলে আমি মালিককে বিষয়টি জানাই। রাতেই পুলিশ ভাটায় আসে এবং আমাদের নির্ভয়ে কাজ করতে বলে। সকালে আমি ইট বিক্রি করলে রইচ খান তার লোকজন নিয়ে এসে আমাকে চেয়ার দিয়ে মারপিট করে। অন্যরা কিল-ঘুষি মারে এবং আমার কাছে থাকা নগদ আড়াই লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এখন আমি বাড়ি ফিরতেও ভয় পাচ্ছি। সে আমাকে মৃত্যুর হুমকিও দিয়েছে।’

ইটভাটার মালিক মো. ইদ্রিস আলী মণ্ডল বলেন, ‘রইচ খান বিএনপি করে, আর আমরা অন্য দল করি। এ কারণে রইচ মাঝেমধ্যেই আমার কাছে আকার-ইঙ্গিতে চাঁদা চায়। আমি বিষয়টি কর্ণপাত করিনি। গত সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে আমার মোটরসাইকেল অবরোধ করে সাড়ে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। আমি চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে আমার সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয়। 

এই ঘটনার জের ধরে গতকাল রাতে সে তার লোকজন নিয়ে আমার ভাটায় গিয়ে ম্যানেজারসহ শ্রমিকদের হুমকি দেয়। আজ সকালে আবার ভাটায় গিয়ে ম্যানেজারকে মারপিট করে এবং ইট বিক্রির নগদ আড়াই লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। আমি প্রতিকার চেয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছি। আমরা নিরাপদে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে চাই।’

এ বিষয়ে পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘গত রাতেই মোবাইলে সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। আজ সকালে আবার ওই ঘটনার জের ধরে ভাটার ম্যানেজারকে মারপিট করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’