স্বামী সাইফুল ইসলাম রসমালাইয়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ান স্ত্রী শাহিদা আক্তার ওরফে মুন্নিকে (২৯)। ওষুধ মেশানো রসমালাই খেয়ে শাহিদা অচেতন হয়ে পড়ে। এরপর সাইফুল তাঁকে প্রথমে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন। তারপর মরদেহের পরিচয় গোপন করতে তিনি শাহিদার শরীর থেকে মাথা ও দুই হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন করেন।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) পুলিশ ঢাকার শাহবাগ এলাকা থেকে সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে কক্সবাজারে এনে সাইফুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল তার সব অপরাধের কথা স্বীকার করেন।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল বলেন, ২৬ মার্চ রাতে তিনি স্ত্রীকে হত্যা করেন। হত্যার এক দিন পর ২৭ মার্চ শাহিদার মাথা ও হাতবিহীন দেহাংশটি ঝিলংজা এলাকার একটি ডোবায় ফেলে দেন। আর শরীর থেকে আলাদা করা মাথা ও হাতের কবজি সাত কিলোমিটার দূরে কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর ওপর নির্মিত খুরুশকুল সেতুর ওপর থেকে নদীতে নিক্ষেপ করেন। এরপর তিনি আত্মগোপন করতে ঢাকায় চলে যান।
সাইফুল ইসলাম (৩৩) মহেশখালীর গোরকঘাটা ইউনিয়নের দাসিমাঝি পাড়ার নুরুল ইসলামের ছেলে। আর নিহত শাহিদা আক্তার মুন্নি একই উপজেলার চরপাড়ার বাসিন্দা আমান উল্লাহর মেয়ে। কয়েক বছর আগে দুজনের বিয়ে হলেও পারিবারিক কলহ লেগে ছিল।
১১ এপ্রিল (শনিবার) বিকেলে কক্সবাজার শহরতলির জানারঘোনা এলাকার একটি ডোবা থেকে মাথা ও দুই হাতের কবজিবিহীন অবস্থায় শাহিদার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শুরুতে পুলিশ লাশের পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি। তবে শাহিদার স্বজন ও এলাকাবাসী শরীরের কাপড় দেখে মরদেহ শনাক্ত করেন। এরপর পুলিশ শাহিদার স্বজনদের কাছ থেকে সাইফুলের মুঠোফোন নম্বর নিয়ে প্রযুক্তির মাধ্যমে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে । ঢাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর কক্সবাজারে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই হত্যার কথা স্বীকার করেন সাইফুল।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ছমিউদ্দিন বলেন, সাইফুলের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশ বুধবার বিকেল থেকে বাঁকখালী নদীতে নিক্ষেপ করা মুন্নির মাথার সন্ধান করছে। এর আগে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, ঘুমের ওষুধ মেশানো রসমালাই এর বাটি উদ্ধার করা হয়। সাইফুলের বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় সোমবার (১৩ এপ্রিল) কক্সবাজার সদর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ ।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!