চাহিদার তুলনায় মিলছে অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ, সারাদেশ, বিদ্যুৎ, লোডশেডিং, বিদ্যুৎ মিলছে না,
আবাসিক প্রকৌশলীর দপ্তর।   ছবি: আরটিএনএন

রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট চরম আকার ধারণ করেছে। প্রতিনিয়ত লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। বর্তমানে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, প্রায় প্রতি এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে।

পাংশা ওজোপাডিকো (পশ্চিমাঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় বরাদ্দের ঘাটতিই এই সংকটের প্রধান কারণ। ওজোপাডিকোর পাংশা বিদ্যুৎ সরবরাহ অফিসের আবাসিক প্রকৌশলী মো. রাকিব হাসান জানান, পাংশা এলাকায় প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ১২.৭ মেগাওয়াট (গ্রিড)।

কিন্তু রাজবাড়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ অফিস থেকে বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৬ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় কর্তৃপক্ষ এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছে। প্রকৌশলী মো. রাকিব হাসান বলেন, “চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না পাওয়ায় আমাদের হাতে আর কোনো বিকল্প নেই। বাধ্য হয়েই প্রতি ঘণ্টায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।”

অন্যদিকে, রাজবাড়ী বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম জানান, চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পাওয়ায় স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, “চাহিদামতো বিদ্যুৎ পেলে আবারও আগের মতো সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে।”

এদিকে, ঘনঘন লোডশেডিংয়ের ফলে ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা। বিশেষ করে তীব্র গরমে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় লোকসানের মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।

দ্রুত এ সমস্যার সমাধান এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন উপজেলার সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।