চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে অবহেলার শিকার হয়েছেন নূর আলম  নামের এক বৃদ্ধ।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে অবহেলার শিকার হয়েছেন নূর আলম নামের এক বৃদ্ধ।   ছবি: আরটিএনএন

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে অবহেলার শিকার হয়েছেন নূর আলম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধ। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাসের আচরণের অভিযোগে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, নূর আলম দীর্ঘদিন ধরে চুয়াডাঙ্গার মোমিনপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় অবস্থান করে আসছেন। প্রায় নয় দিন আগে রাজবাড়ীতে কুকুরের কামড়ে তার পায়ে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হয়। সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পচন ধরেছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে চিকিৎসার আশায় তিনি সদর হাসপাতালে আসেন। সেখানে উপস্থিত দুই ব্যক্তির মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাকে ভর্তি করানোর উদ্যোগ নেন।

বেসরকারি চাকরিজীবী ফারুক আহাম্মেদ জানান, তিনি বহির্বিভাগে উপস্থিত থাকাকালীন দেখেন, বৃদ্ধের পা থেকে রক্ত পড়ছে এবং দুর্গন্ধ বেরোচ্ছে। অসহায় অবস্থায় তিনি হাসপাতালে ঘুরছিলেন। পরে ফারুক আহম্মেদ তাকে জরুরি বিভাগে নিয়ে যান, সেখান থেকে সার্জারি ওয়ার্ডে রেফার করা হয়। তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। দীর্ঘ ভোগান্তির পর তাকে ভর্তি করা সম্ভব হয়।

ফারুক অভিযোগ করেন, “পরবর্তীতে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস ওয়ার্ডে এসে দূর থেকে রোগীকে দেখেন এবং বলেন, পা কেটে ফেলতে হতে পারে, উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া বা রাজশাহীতে নেওয়ার পরামর্শ দেন। একইসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, ‘দিনকাল যা হয়েছে স্টেশন থেকে লোক তুলে এনে এখানে চিকিৎসার করাচ্ছে’। তার এমন মন্তব্য রোগী ও স্বজনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।”

সার্জারি ওয়ার্ডে থাকা আরেক রোগীর স্বজন কনিকা বলেন, “চিকিৎসক রোগীর কাছে না গিয়ে দূর থেকেই পর্যবেক্ষণ করেছেন। তিনি বলেছেন, আপনাকে দেখব না, কুষ্টিয়া বা রাজশাহীতে রেফার করা হলো। এমন মন্তব্যে মানবিকতার ঘাটতি স্পষ্ট ছিল।”

ভুক্তভোগী নূর আলম বলেন, “রাজবাড়ীতে কুকুরের কামড়ে পায়ে ক্ষত হয়েছে। কয়েকদিন চিকিৎসা না পেয়ে হাসপাতালে এসেছি। বারবার এদিক-ওদিক ঘুরতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ি। পরে দুই ব্যক্তি আমাকে সহযোগিতা করেছেন।”

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস জানান, “রোগীর পায়ে কুকুরের কামড়জনিত ক্ষত থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে গেছে। আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা ও ড্রেসিং করেছি। হাসপাতালের সমাজসেবা বিভাগ থেকে ওষুধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থার কারণে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে। রোগীর সাথে কোন স্বজন উপস্থিত নেই।”