মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কুমিল্লায় ৪ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, সারাদেশ, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, কুমিল্লা, মহাসড়ক,
কুমিল্লা মহাসড়কে উচ্ছেদ অভিযানের দৃশ্য।   ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজার এলাকায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা ৪ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) বেলা ১১টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার আসিফুল হক, সওজ কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা, উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান, কুমিল্লা সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া এবং বুড়িচং উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সওজ সূত্রে জানা যায়, মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে সড়কের দুই পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট সরাতে আগেই নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দখলদাররা স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় তিনটি বুলডোজার দিয়ে অভিযান চালিয়ে এসব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

অভিযানে নিমসার পাইকারি বাজার এলাকায় প্রায় ৪ শতাধিক ভাসমান ও স্থায়ী অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি মহল সওজের জমি দখল করে এসব দোকান নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া আদায় করে আসছিল। ফলে মহাসড়কের ওপরই ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানে পণ্য লোড-আনলোড করা হতো, যার কারণে প্রতিদিনই তীব্র যানজট ও জনভোগান্তি সৃষ্টি হতো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, নিমসার কাঁচাবাজার সারাদেশে পরিচিত। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অনেকেই সওজের জায়গা দখল করে দোকান গড়ে তুলেছেন। এছাড়া মহাসড়কের ওপর যত্রতত্র গাড়ি থামিয়ে পণ্য ওঠানামা করার কারণে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত এ এলাকায় প্রায়ই যানজট লেগে থাকত।

বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হোসেন বলেন, সওজের সঙ্গে সমন্বয় করে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সওজ কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা জানান, উচ্ছেদ অভিযানের পর সরকারি জায়গায় নতুন করে কেউ যাতে স্থাপনা গড়ে তুলতে না পারে, সে জন্য সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি এখানে বাস থামানোর ব্যবস্থা করা হবে এবং ভবিষ্যতে এ এলাকায় সার্ভিস লেন নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

আরবিএ/আরটিএনএন