শোকজ
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবু মুছাকে শোকজ করেছেন আদালত।   ছবি: আরটিএনএন

ভোলার মনপুরায় আওয়ামী লীগের এক নেতাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়াকে কেন্দ্র করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবু মুছাকে শোকজ করেছেন আদালত। একই সঙ্গে বিতর্কিত ওই আদেশ স্থগিত করে বিবাদীদের পাঁচ দিনের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ মার্চ এক অফিস আদেশে মো. মাইনউদ্দিন মাস্টারকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং ৩ এপ্রিলের মধ্যে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে বলা হয়। এ আদেশের বিরুদ্ধে ১ এপ্রিল ভোলার মনপুরা সিভিল জজ আদালতে একটি মামলা করা হয় (মামলা নম্বর: ১৫/২০২৬)।

মামলার নথি অনুযায়ী, মো. মাইনউদ্দিন মাস্টার ২০১৫ সালে সহকারী শিক্ষক থাকা অবস্থায় তথ্য গোপন করে অনিয়মের মাধ্যমে ছমেদপুর বাংলাবাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও তিনি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এমনকি নিয়োগের ফলাফলের নম্বরপত্রে কাটাছেঁড়া করে তাকে উত্তীর্ণ দেখানো হয়েছে বলেও নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

এ ছাড়া নিয়োগের পর থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্টের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সরকার পরিবর্তনের পর সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল নোমান মাইনউদ্দিনের নিয়োগ প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে আবেদন করেন। বিষয়টি বর্তমানে ভোলা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার তদন্তাধীন রয়েছে।

আরও জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল বিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় মাইনউদ্দিনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার তদন্তে তার জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে এলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে।

বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ মার্চ ইউএনও মো. আবু মুছা আকস্মিকভাবে বিদ্যালয়ে গিয়ে কমিটির অন্য সদস্যদের অবহিত না করে এবং কোনো সভার সিদ্ধান্ত ছাড়াই বরখাস্ত শিক্ষক মাইনউদ্দিনকে পুনর্বহাল দেখিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেন। এতে কমিটির সদস্যদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং তারা আদালতের শরণাপন্ন হন।

এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ এ সিদ্ধান্তের পেছনে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তারা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণের কথাও জানিয়েছেন।