ট্রেন লাইনচ্যুত, সিলেট, সারাদেশ, রেল যোগাযোগ, বন্ধ
ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ১১ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ এখনো স্বাভাবিক হয়নি।   ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জের মাধবপুরে জ্বালানি তেলভর্তি ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ার পর ১৫ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়নি। বৃহস্পতিবার সকাল ১২টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। লাইনচ্যুত বগি উদ্ধারের কাজ চলছে। তেল লুট ঠেকাতে ঘটনাস্থলে (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

এছাড়া পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সারা দেশের সঙ্গে সিলেটের সব রেল সিডিউল স্থগিত করা হয়েছে। এতে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি তৈরি হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ রুটে চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলছে বলে জানা গেছে।

নোয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. মনির আহমেদ জানান, উদ্ধার কাজ চলমান রয়েছে এবং রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হতে আরও ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।

এদিকে, ছড়িয়ে পড়া তেল সংগ্রহের সময় অভিযান চালিয়ে বিজিবি প্রায় ১ হাজার লিটার তেল জব্দ করেছে। লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজিলুর রহমান বলেন, ‘ইতোমধ্যে বিজিবি বিপুল পরিমাণ তেল নিজস্ব জারিকেন ও ড্রামে করে উদ্ধার করে সংরক্ষণ করেছে। তেল যাতে কেউ নিয়ে যেতে না পারে, সে ব্যাপারে আমরা তৎপর আছি।

বুধবার (১ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৯টায় সিলেটগামী ট্রেনটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এ সময় অন্তত ৬টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে ছিটকে পড়ে এবং বিপুল পরিমাণ তেল আশপাশের এলাকা, সড়ক ও খালে ছড়িয়ে পড়ে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

দুর্ঘটনার পর থেকেই উদ্ধার কাজে নেমেছে সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এবং পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থা। তারা যৌথভাবে লাইনচ্যুত বগি সরানো এবং রেললাইন দ্রুত সচল করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

 শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার লিটন চন্দ্র দে বলেন, উদ্ধার কার্যক্রম চলছে। আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত দুটি বগি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

এদিকে ওই ঘটনার পর আশপাশের লোকজন সেখানে ভিড় করেন। অনেকে লাইনচ্যুত বগি থেকে তেল লুট করার চেষ্টা করেন। পরে খবর পেয়ে বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

বিজিবির হবিগঞ্জ ৫৫ ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজিলুর রহমান জানান,‘আমরা খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছাই এবং তেল লুটপাট বন্ধ করি। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক হাজার লিটার তেল উদ্ধার করেছি। ফায়ার সার্ভিসসহ আমরা সবাই উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’

নোয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. মনির আহমেদ জানান, দুর্ঘটনার কারণে এখন পর্যন্ত তিনটি ট্রেনের সূচি বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উপবন এক্সপ্রেস, উদয়ন এক্সপ্রেস এবং পাহাড়িকা এক্সপ্রেস। যাত্রীদের টিকিট সংরক্ষণ করে ভাড়া ফেরত দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, উদ্ধার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হতে আরও ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।

দীর্ঘ সময় ধরে রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকায় সিলেট অভিমুখী যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।