মাদক ও জুয়ার বিস্তারে নেহালপুর, পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, সারাদেশ, মাদক, পুলিশ, জুয়া, ঘুষ, রেজাউল করিম,
নেহালপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ রেজাউল করিমে।   ছবি: আরটিএনএন

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার নেহালপুরসহ আশপাশের এলাকা মাদক ও জুয়ার বিস্তারে ক্রমেই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনের নজরদারি দুর্বল হওয়ায় এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড দিন দিন বেড়েই চলেছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বিশেষ করে যুবসমাজের ওপর।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নেহালপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়াড়িদের সঙ্গে সখ্যতার অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, তার প্রভাবের কারণে মাদক ও জুয়ার আসর বন্ধ করা যাচ্ছে না। এতে করে পার্শ্ববর্তী এলাকা, এমনকি মনিরামপুর ও অভয়নগর থেকেও মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা নেওয়া হয়, যার ফলে তারা নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তরুণ সমাজ বিপথগামী হয়ে পড়ছে।

এছাড়া, বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের কাছ থেকেও নগদ অর্থ ও পণ্য ঘুষ হিসেবে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

গেল ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির অভিযোগও সামনে এসেছে। বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, মাছের আড়ৎ, এমনকি স্থানীয় মেলার দোকান থেকেও অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে পুলিশ ক্যাম্পের জন্য দেওয়া ঈদ উপহার ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা।

অন্যদিকে, ব্যবসায়ী ও কৃষকদের কাছ থেকেও নানা উপায়ে পণ্য সংগ্রহ করে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। ক্যাম্পের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে সংগ্রহ করা আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম ব্যক্তিগত বাসায় নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এসব ঘটনায় পুলিশ ক্যাম্পের ভেতরেও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। একাধিক পুলিশ সদস্য ইতোমধ্যে বদলির আবেদন করে অন্যত্র চলে গেছেন এবং আরও কয়েকজন আবেদন করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

তবে অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন নেহালপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ রেজাউল করিম। তিনি বলেন, মাদক বা জুয়ার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। পুলিশ সদস্যদের বদলির বিষয়টিকে তিনি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বলেও উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।