মুন্সিগঞ্জের সিরাজদীখানে মা-মেয়ের জোড়া হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর রহস্য অবশেষে উদঘাটন করেছে পুলিশ। মোবাইল ফোনের উচ্চ শব্দ নিয়ে বিরক্তি থেকেই একই বাড়ির ভাড়াটিয়া, মাদকাসক্ত মোহাম্মদ আলী হোসেন এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে। গ্রেপ্তারের পর আদালতে ১৬১ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতেও আলী হোসেন হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।
পুলিশ জানায়, গত ১৯ জানুয়ারি সকালে দক্ষিণ রাজানগরের একটি ভাড়া বাসায় নিজের কক্ষে মোবাইলে ভিডিও দেখছিলেন আমেনা বেগম। এ সময় শব্দ কমাতে বলাকে কেন্দ্র করে পাশের কক্ষের ভাড়াটিয়া আলী হোসেনের সঙ্গে তর্ক শুরু হয়। এর এক পর্যায়ে আলী হোসেন কাঠের ডাসা দিয়ে আমেনা বেগমের মাথায় আঘাত করলে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। মাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসা আট বছরের মরিয়মকেও একইভাবে আঘাত করা হয়, এতে সেখানেই তার মৃত্যু ঘটে।
ঘটনার পরই দুইজনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ, আর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। আমেনা বেগমের মা মনোয়ারা বেগম অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সিরাজদীখান থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর শেখরনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সনজিৎ কুমার ঘোষের নেতৃত্বে পুলিশ টানা দশ দিন তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অনুসন্ধান চালায়। তদন্তে জানা যায়, ঘটনার পরপরই আলী হোসেন হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান এবং তার প্রকৃত পরিচয় বাড়ির মালিকও জানতেন না।
তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের পর জানা যায়, হত্যার পর তিনি মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া ও কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। কখনো ফলের বাগানে, কখনো স্কুলের বারান্দায় রাত কাটিয়ে এলাকা পরিবর্তন করছিলেন। পুলিশের টানা তিন দিনের অভিযানের পর বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে গজারিয়ার মেঘনা–গোমতী সেতুর কাছে পাখির মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় হত্যায় ব্যবহৃত কাঠের ডাসাটিও উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মুন্সিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মেনহাজুল আলম জানান, গ্রেপ্তারকৃত আলী হোসেন নিয়মিত মাদক সেবন করতেন এবং ভবঘুরে জীবনযাপন করতেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার সহিংস আচরণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। সামান্য মোবাইল ফোনের শব্দ নিয়ে বিরক্তি থেকেই যে এমন ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা তদন্তে নিশ্চিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, অথবা আসামির বিরুদ্ধে আগে কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল কি না এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত এখনো চলমান। গ্রেপ্তারের পর আলী হোসেনকে আদালতে উপস্থাপন করা হলে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!