লবণ চাষ
বাঁশখালীতে কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে এ বছর লবণ চাষ হচ্ছে।   ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের উপকূলীয় উপজেলা বাঁশখালীতে লবণের মাঠে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং পর্যাপ্ত রোদ পাওয়ায় লবণ উৎপাদনে রেকর্ড গড়ার স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় চাষীরা। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) এবং স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, বাঁশখালীর কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় ৩৮ থেকে ৪০ হাজার চাষী ও শ্রমিক সরাসরি লবণ উৎপাদনের সাথে যুক্ত রয়েছেন।

বাঁশখালীর গণ্ডামারা, বড়ঘোনা, শীলকূপ এবং উপকূলীয় বিভিন্ন ইউনিয়নে চাষীরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লবণের মাঠে কাজ করছেন। এসব এলাকায় শীতের শুরুতেই লবণ উৎপাদন শুরু হয়েছে। যেখানে হাজার হাজার কৃষক আধুনিক পলিথিন পদ্ধতিতে লবণ চাষ নিয়ে ব্যস্ত। এ অঞ্চলে লবণ উৎপাদন বাণিজ্যিকভাবে হয়, যা দেশের চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করে। এ প্রক্রিয়ায় বিসিক প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দেয়।

গত বছর দেশে রেকর্ড পরিমাণ লবণ উৎপাদন হয়েছিল। চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমেও সেই ধারা বজায় রাখতে চাষীরা পলিথিন পদ্ধতিতে উন্নত মানের সাদা লবণ উৎপাদন করছেন।

বিসিকের তথ্য মতে, চলতি-বছর ৬৯ হাজার একরেরও বেশি জমিতে আধুনিক পলিথিন পদ্ধতিতে লবণ চাষ করছেন চাষীরা। শতভাগ জমিতে এ পলিথিন প্রযুক্তিতে লবণ উৎপাদন হওয়ায় চাষীরা তাদের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি লবণ উৎপাদনে সক্ষম হবেন বলেও আশা বিসিকেও।

সম্প্রতি জাতীয় লবণ মহল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, চাষীদের স্বার্থ রক্ষায় লবণের জমির লিজের দাম বাড়ানো হবে না। বিসিক (BSCIC) লবণের এই অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে ঋণ সুবিধা ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে। এছাড়া উৎপাদন খরচ প্রতি কেজিতে প্রায় ৮.২৯ টাকা হলেও মধ্য-স্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে সরাসরি চাষীদের কাছ থেকে লবণ কেনার পরিকল্পনা করছে সরকার।

চাষীদের মতে, যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় এবং আবহাওয়া এমন রৌদ্রোজ্জ্বল থাকে, তবে মে মাস পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি লবণ উৎপাদন সম্ভব হবে। সরকার বর্তমানে একটি নতুন জাতীয় লবণ নীতি ২০২৬ খসড়া করছে, যা প্রান্তিক চাষীদের বীমা ও স্বাস্থ্য কার্ডের আওতায় আনবে।