বিদেশে চাকরির নামে প্রতারণা, ১২ জনকে কারাদণ্ড-জরিমানা
বিদেশে চাকরির নামে প্রতারণা, ১২ জনকে কারাদণ্ড-জরিমানা।   ছবি: সংগৃহীত

বিদেশে চাকরি ও ওয়ার্কিং ভিসা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের পাসপোর্ট ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিকেটিটিসি) এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে এসআরবি-৪।

পরে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাদের দণ্ড দেওয়া হয়। অভিযান চলাকালে আটক ব্যক্তিদের কয়েকজন ‘জিয়ার সৈনিক’ স্লোগান দিয়ে এবং বিকেটিটিসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচয় থাকার কথা বলে নিজেদের প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন বলে জানিয়েছে এসআরবি।

তবে রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা ব্যক্তিগত যোগাযোগ অপরাধের দায় থেকে রেহাই দেবে না বলে স্পষ্ট করেছে সংস্থাটি। অভিযানে আটক ১২ জনের মধ্যে সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও পাঁচজনকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে সবুজ ও শামীমকে তিন মাস করে, সুজনকে এক মাস, শাহিনকে ২১ দিন, আবুল বাসারকে ১৫ দিন এবং হারুন ও সুরুজ মিয়াকে সাত দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

অর্থদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে দুর্জয়কে ১০ হাজার টাকা, রেজাউল করিমকে পাঁচ হাজার টাকা, কাইয়ুমকে চার হাজার টাকা, রিয়াজকে দুই হাজার টাকা ও কামরুন নাহারকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে অভিযান শেষে ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান এসআরবি-৪-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং বাংলাদেশ ওভারসিজ অ্যামপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট দালাল চক্রের কার্যক্রমের ওপর ছায়াতদন্ত চালানো হয়। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চক্রটির সদস্যরা বিদেশে চাকরি ও কর্মসংস্থানের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা আদায় করতেন।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, প্রতারক চক্রের সদস্যরা ৪০ হাজার থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থের বিনিময়ে বিদেশে পাঠানো এবং লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করিয়ে দেওয়ার নিশ্চয়তা দিতেন। পরে বিভিন্ন অজুহাতে প্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করা হতো।

তিনি জানান, বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। তবে প্রতিষ্ঠানটি নিজে বিদেশে কর্মী পাঠায় না কিংবা চাকরির ব্যবস্থা করে না।

অন্যদিকে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন বোয়েসেল বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশে কর্মী নিয়োগের কার্যক্রম পরিচালনা করে। বোয়েসেলের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি নেওয়া হয় না। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই প্রতারক চক্রটি বিদেশে যেতে আগ্রহীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল বলে জানান তিনি।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান আরও বলেন, জর্ডানে সরকারিভাবে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়াটি প্রায় সম্পূর্ণ বিনা খরচে পরিচালিত হয়। এক্ষেত্রে কর্মীদের বিমানভাড়া, ভিসা ফি কিংবা নিয়োগ-সংশ্লিষ্ট খরচ বহন করতে হয় না। তবে ব্যক্তিগত কিছু খরচ থাকতে পারে। সরকারি এই ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে দালাল চক্র সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

এসআরবি-৪-এর অধিনায়ক বলেন, এ ধরনের প্রতারণার সঙ্গে কোনো সরকারি কর্মকর্তা কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের কেউ কেউ রাজনৈতিক পরিচয় ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিত থাকার কথা বলে নিজেদের রক্ষা করার চেষ্টা করেছেন। তবে অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় বা ব্যক্তিগত যোগাযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।