ডাকসু সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বাতিলের সিদ্ধান্তকে সরকারের “স্বৈরাচারী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ” বলে মন্তব্য করেছে।
ডাকসু সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বাতিলের সিদ্ধান্তকে সরকারের “স্বৈরাচারী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ” বলে মন্তব্য করেছে।   ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বাতিলের সিদ্ধান্তকে সরকারের “স্বৈরাচারী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ” বলে মন্তব্য করেছে।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ডাকসু নেতারা বলেন, বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিত করার সিদ্ধান্ত বিচার বিভাগের স্বায়ত্তশাসনের জন্য হুমকি তৈরি করবে।

তারা বলেন, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, অধস্তন আদালতের বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলাবিধান নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করেছিল। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর “সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ বিল” পাসের মাধ্যমে সেই কাঠামো বাতিল করা হয়। সর্বশেষ সিনিয়র সচিবসহ ১৫ জন কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা বিচার বিভাগের প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ডাকসু আরও দাবি করে, সংবিধান অনুযায়ী বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা একটি মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার। অতীতে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগের প্রভাবিত করার অভিযোগ ছিল উল্লেখ করে তারা বলেন, বিচারকদের বদলি ও পদোন্নতির মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের নজির রয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ছাড়া কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বাতিলের সিদ্ধান্ত বিচার বিভাগকে পুনরায় নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে বলেও দাবি করা হয়।

ডাকসু অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় পুনর্বহাল এবং বিচার বিভাগের পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানায়।

এছাড়া অধস্তন আদালতের বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলাবিধানের নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টের অধীনে ন্যস্ত করার আহ্বান জানানো হয়।