শিরোপা জিতলেও বিশ্বকাপে যে কারণে খুশি ছিলেন না ইয়ামাল
শিরোপা জিতলেও বিশ্বকাপে যে কারণে খুশি ছিলেন না ইয়ামাল।   ছবি: সংগৃহীত

বার্সেলোনা ও স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল বিশ্বকাপ জিতেও নিজের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট ছিলেন না। জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বমঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও নিজের কাছে প্রত্যাশার মানদণ্ড এতটাই উঁচু যে, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নিয়ে এখনও আক্ষেপ রয়েছে ১৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের। খবর গোল ডটকমের। 

এরপর স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদও পান এই তরুণ তারকা। তবে বিশ্বকাপে আট ম্যাচে তার গোল মাত্র একটি, অ্যাসিস্টও নেই। দলের সাফল্যের পরও ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান ও নিজের প্রত্যাশার সঙ্গে পারফরম্যান্সের ব্যবধানই তাকে হতাশ করেছে।

বিশ্বকাপে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশার কারণ হিসেবে চোটকে দায়ী করতে রাজি নন ইয়ামাল। এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, চোট থাকলেও তিনি মনে করেন, বিশ্বকাপ আবার হলে একই মানের পারফরম্যান্স দিতে পারতেন।

তার ভাষ্য, ‘বিশ্বকাপ জেতার পরও আমি খুশি ছিলাম না। চোটের বিষয়টি সত্যি, কিন্তু এর সঙ্গে সেটার কোনো সম্পর্ক নেই। বিশ্বকাপ আবার হলে চোট না থাকলেও আমি একইভাবে খেলতে পারতাম।’

তবে ইয়ামাল মনে করেন, মাঠে তার এমন অনেক অবদান ছিল যা পরিসংখ্যানে ধরা পড়ে না। বিশেষ করে প্রতিপক্ষের একাধিক ডিফেন্ডারকে নিজের দিকে টেনে এনে সতীর্থদের জন্য জায়গা তৈরি করার বিষয়টি তিনি তুলে ধরেছেন, ‘আমি এমন অনেক কিছু করেছি, যা মানুষ দেখেনি। উদাহরণ হিসেবে বলি, একজন কোচের জন্য এমন একজন খেলোয়াড় থাকা অসাধারণ, যে প্রতিপক্ষের তিনজন ডিফেন্ডারকে নিজের দিকে টেনে নিতে পারে।’

নিজের পারফরম্যান্সে আরও বেশি চেয়েছিলেন ইয়ামাল, ‘নিজের পারফরম্যান্সে আমি খুশি ছিলাম না। কারণ আমি জানি, আমার পর্যায়ের আরেকজন খেলোয়াড় এমন পারফরম্যান্স করলে সেটিকে দারুণ বিশ্বকাপ বলা হতো। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে আমি জানি, আরও বেশি কিছু করতে পারতাম। আমি দলকে সাহায্য করেছি, তবে পরের বিশ্বকাপের জন্য আমি সত্যিই অপেক্ষা করছি।’

মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ইয়ামালের ট্রফির ঝুলিতে রয়েছে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ, বিশ্বকাপ, তিনটি লা লিগা, দুটি স্প্যানিশ সুপার কাপ ও একটি কোপা দেল রে। এত অল্প বয়সে এত সাফল্য পেলেও তার ক্ষুধা যেন আরও বেড়েছে।

ফুটবলের কিংবদন্তিদের সঙ্গে নিজের পথচলার তুলনা টেনে ইয়ামাল বলেছেন, লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো কিংবা দিয়েগো ম্যারাডোনার মতো তারকারা ইতিহাসে নিজেদের জায়গা করে নিয়েছেন। পেলের কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। তবে এত অল্প বয়সে পাওয়া সাফল্য তাকে আত্মতুষ্ট করে তুলবে, এমন ধারণা ভুল বলে মনে করেন বার্সেলোনার এই তারকা।

তার ভাষ্য, ‘কিছু মানুষ মনে করেন, আমি যেহেতু এরই মধ্যে অনেক কিছু জিতেছি, তাই হয়তো গতি কমিয়ে দেব। কিন্তু আমি জানি, ফুটবল ইতিহাসে নিজের নাম লেখাতে আমার এখনও হাজারটা কাজ বাকি।’